আন্তর্জাতিক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার সরকারি তথ্যের আগাম প্রবেশাধিকার বিক্রির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের নতুন সেবা ‘ট্রুথ এপিআই’। এই সেবায় মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পরিশোধ করলে ট্রাম্প ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে পাওয়ার সুযোগ মিলছে।
মামলাটি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট ও ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। ১২ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগকে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে উন্মুক্ত করা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এটি অসাংবিধানিক।
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই বড় সুবিধা
বিতর্কের মূল বিষয় হলো তথ্য পাওয়ার সময়ের ব্যবধান। ট্রুথ এপিআইয়ের গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালের নির্বাচিত অ্যাকাউন্টের পোস্ট সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের আগেই পেতে পারেন। সেবাটি ১ আগস্ট চালু করা হয়। এর সর্বোচ্চ মাসিক ফি ১ লাখ ডলার। তিন বছরের জন্য চুক্তি করলে মাসিক ফি ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত নামতে পারে।
এই ব্যবধান আর্থিক বাজারে বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মামলাকারীদের যুক্তি। প্রেসিডেন্ট যদি নতুন কোনো শুল্ক, বাণিজ্যনীতি, সামরিক পদক্ষেপ বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন, সেই তথ্য বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা খবরটি জানার আগেই কোনো ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান তথ্যটি পেয়ে গেলে তারা সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।
অর্থাৎ এখানে কয়েক সেকেন্ড বা মুহূর্তের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উচ্চগতির অ্যালগরিদমিক ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে সংবাদ পাওয়ার সময়ের সামান্য পার্থক্যও আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্পের সঙ্গে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের মালিকানা সম্পর্ক। এই কোম্পানিই ট্রুথ সোশ্যাল পরিচালনা করে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার; তাঁর মালিকানার অংশের মূল্য প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলার। ফলে সরকারি কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্যের আগাম প্রবেশাধিকার বিক্রি করে কোম্পানি আয় করলে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের প্রশ্নও জড়িয়ে যায়।
ট্রুথ এপিআই ইতিমধ্যে আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করেছে। সংবাদমাধ্যম ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ১০টি গ্রাহক সেবাটিতে যুক্ত হয়েছে বলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সরকারি তথ্য কি অর্থ দিয়ে আগে পাওয়া যাবে?
মামলাকারীদের মূল আপত্তি এখানেই। তাঁদের বক্তব্য, একজন প্রেসিডেন্টের সরকারি ঘোষণা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ পণ্য হতে পারে না। বিশেষ করে সেই ঘোষণা যদি অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য বা নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বাজার ও জনজীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে সাধারণ জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সমান থাকা উচিত।
মামলাকারীরা আদালতের কাছে ট্রুথ এপিআইয়ের এই ব্যবস্থা বেআইনি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, অর্থের বিনিময়ে যদি আগাম প্রবেশাধিকার চালু থাকে, তাহলে সরকারি ঘোষণার একমাত্র বা প্রধান মাধ্যম হিসেবে ট্রুথ সোশ্যাল ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের সঙ্গে আরও একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি যোগাযোগের জন্য এমন একটি বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা তথ্য সংরক্ষণ ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কোনো পোস্ট মুছে ফেলা হলে বা প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকলে সরকারি তথ্যের দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ড সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ট্রাম্প মিডিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেন্সরশিপের প্রচেষ্টা হিসেবে খারিজ করা হয়েছে। কোম্পানির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য, ট্রুথ এপিআইয়ের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় সামান্য দ্রুত।
মামলাটি এখন মার্কিন আদালতে আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থই নয়, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ কতটা বেসরকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার সরকারি তথ্যের আগাম প্রবেশাধিকার বিক্রির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের নতুন সেবা ‘ট্রুথ এপিআই’। এই সেবায় মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পরিশোধ করলে ট্রাম্প ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে পাওয়ার সুযোগ মিলছে।
মামলাটি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট ও ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। ১২ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগকে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে উন্মুক্ত করা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এটি অসাংবিধানিক।
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই বড় সুবিধা
বিতর্কের মূল বিষয় হলো তথ্য পাওয়ার সময়ের ব্যবধান। ট্রুথ এপিআইয়ের গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালের নির্বাচিত অ্যাকাউন্টের পোস্ট সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের আগেই পেতে পারেন। সেবাটি ১ আগস্ট চালু করা হয়। এর সর্বোচ্চ মাসিক ফি ১ লাখ ডলার। তিন বছরের জন্য চুক্তি করলে মাসিক ফি ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত নামতে পারে।
এই ব্যবধান আর্থিক বাজারে বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মামলাকারীদের যুক্তি। প্রেসিডেন্ট যদি নতুন কোনো শুল্ক, বাণিজ্যনীতি, সামরিক পদক্ষেপ বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন, সেই তথ্য বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা খবরটি জানার আগেই কোনো ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান তথ্যটি পেয়ে গেলে তারা সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।
অর্থাৎ এখানে কয়েক সেকেন্ড বা মুহূর্তের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উচ্চগতির অ্যালগরিদমিক ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে সংবাদ পাওয়ার সময়ের সামান্য পার্থক্যও আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্পের সঙ্গে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের মালিকানা সম্পর্ক। এই কোম্পানিই ট্রুথ সোশ্যাল পরিচালনা করে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার; তাঁর মালিকানার অংশের মূল্য প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলার। ফলে সরকারি কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্যের আগাম প্রবেশাধিকার বিক্রি করে কোম্পানি আয় করলে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের প্রশ্নও জড়িয়ে যায়।
ট্রুথ এপিআই ইতিমধ্যে আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করেছে। সংবাদমাধ্যম ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ১০টি গ্রাহক সেবাটিতে যুক্ত হয়েছে বলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সরকারি তথ্য কি অর্থ দিয়ে আগে পাওয়া যাবে?
মামলাকারীদের মূল আপত্তি এখানেই। তাঁদের বক্তব্য, একজন প্রেসিডেন্টের সরকারি ঘোষণা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ পণ্য হতে পারে না। বিশেষ করে সেই ঘোষণা যদি অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য বা নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বাজার ও জনজীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে সাধারণ জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য পাওয়ার সুযোগ সমান থাকা উচিত।
মামলাকারীরা আদালতের কাছে ট্রুথ এপিআইয়ের এই ব্যবস্থা বেআইনি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, অর্থের বিনিময়ে যদি আগাম প্রবেশাধিকার চালু থাকে, তাহলে সরকারি ঘোষণার একমাত্র বা প্রধান মাধ্যম হিসেবে ট্রুথ সোশ্যাল ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের সঙ্গে আরও একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি যোগাযোগের জন্য এমন একটি বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা তথ্য সংরক্ষণ ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কোনো পোস্ট মুছে ফেলা হলে বা প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকলে সরকারি তথ্যের দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ড সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ট্রাম্প মিডিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেন্সরশিপের প্রচেষ্টা হিসেবে খারিজ করা হয়েছে। কোম্পানির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য, ট্রুথ এপিআইয়ের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় সামান্য দ্রুত।
মামলাটি এখন মার্কিন আদালতে আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থই নয়, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ কতটা বেসরকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
2.png)