খেলা
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
দিনের শেষ বলেই অবশ্য কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। মারনাস লাবুশেনের করা শেষ বলটি মেহেদী হাসান মিরাজ গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি গ্রিন। জীবন পেয়ে মিরাজ দিন শেষ করেন ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থেকে। অন্য প্রান্তে হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত।
সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি এখন ৪৩ রানের। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলে এই জুটি খেলেছে ১৪৭ বল। দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের জন্য সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেন তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ। নাথান লায়নের বলে আউট হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১০১ রান। নাজমুল থেমেছেন ৮৪ রানে, আর মুমিনুল করেছেন ৪৯।
তানজিদের বিদায়ের পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ন্ত্রণে ছিল। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ১০৫ রান তুলে বাংলাদেশ হারায় মাত্র একটি উইকেট। ওই সেশন শেষে লিড বেড়ে হয় ৮৮ রান। এর মধ্য দিয়ে ডারউইন টেস্টে টানা পাঁচ সেশন নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া অবশ্য দিনের শেষ দিকে চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছিল। ৮৪ রানে নাজমুলকে জশ হ্যাজলউড ফিরিয়ে দেওয়ার পর মিচেল স্টার্কের বলে কোনো রান না করেই লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর কামিন্সের বলে ৩৬ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। স্টিভ স্মিথের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এই ক্যাচের মাধ্যমে টেস্টে স্মিথের ক্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮-তে, যা জো রুটের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ৩১২ রানে পৌঁছে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। তবে মিরাজ ও হাসান মাহমুদ সেই চাপ সামলে নেন। বিশেষ করে বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়ার পর হাসানের ব্যাটিংয়ে পাওয়া দৃঢ়তা বাংলাদেশের ইনিংসকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে নিজের সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ স্পেল করতে বাধ্য করে বাংলাদেশ। মিরাজের আক্রমণাত্মক শটের সঙ্গে হাসানের প্রতিরোধী ব্যাটিং মিলিয়ে শেষ সেশনের নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখে সফরকারীরা। এখন তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য লিড আরও বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপের মধ্যে ফেলা।
বিষয় : বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ডারউইন টেস্ট
2.png)
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
দিনের শেষ বলেই অবশ্য কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। মারনাস লাবুশেনের করা শেষ বলটি মেহেদী হাসান মিরাজ গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি গ্রিন। জীবন পেয়ে মিরাজ দিন শেষ করেন ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থেকে। অন্য প্রান্তে হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত।
সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি এখন ৪৩ রানের। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলে এই জুটি খেলেছে ১৪৭ বল। দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের জন্য সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেন তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ। নাথান লায়নের বলে আউট হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১০১ রান। নাজমুল থেমেছেন ৮৪ রানে, আর মুমিনুল করেছেন ৪৯।
তানজিদের বিদায়ের পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ন্ত্রণে ছিল। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ১০৫ রান তুলে বাংলাদেশ হারায় মাত্র একটি উইকেট। ওই সেশন শেষে লিড বেড়ে হয় ৮৮ রান। এর মধ্য দিয়ে ডারউইন টেস্টে টানা পাঁচ সেশন নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া অবশ্য দিনের শেষ দিকে চাপ তৈরির সুযোগ পেয়েছিল। ৮৪ রানে নাজমুলকে জশ হ্যাজলউড ফিরিয়ে দেওয়ার পর মিচেল স্টার্কের বলে কোনো রান না করেই লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর কামিন্সের বলে ৩৬ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। স্টিভ স্মিথের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এই ক্যাচের মাধ্যমে টেস্টে স্মিথের ক্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮-তে, যা জো রুটের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ৩১২ রানে পৌঁছে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। তবে মিরাজ ও হাসান মাহমুদ সেই চাপ সামলে নেন। বিশেষ করে বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়ার পর হাসানের ব্যাটিংয়ে পাওয়া দৃঢ়তা বাংলাদেশের ইনিংসকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে নিজের সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ স্পেল করতে বাধ্য করে বাংলাদেশ। মিরাজের আক্রমণাত্মক শটের সঙ্গে হাসানের প্রতিরোধী ব্যাটিং মিলিয়ে শেষ সেশনের নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখে সফরকারীরা। এখন তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য লিড আরও বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপের মধ্যে ফেলা।
2.png)