সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

‘চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি’

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে আবেগঘন স্মরণসভা। ছাত্রদলের কর্মসূচিতে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সতর্ক করলেন রুহুল কবির রিজভী।

 ‘চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি’
ছবি -সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি যেন বুধবার প্রথম প্রহরে ফিরে এসেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মোমবাতির স্নিগ্ধ আলোয় চারিদিক তখন নিস্তব্ধ। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন শত শত নেতাকর্মী। জাতীয় সংগীতের সুরে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, এরপর শহীদদের স্মরণে জ্বলে ওঠে মোমবাতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। জুলাইয়ের সেই দিনগুলোর ভয়াবহতা ও ত্যাগের কথা মনে করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি।’

রিজভী আরও বলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো বুক চিতিয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। প্রশান্ত মহাসাগর না দেখলেও, শহীদ আনাসের মায়ের চোখের জলের দিকে তাকালে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা অনুভব করি।’ তাঁর মতে, জুলাইয়ের এই স্মৃতি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এই আলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো সুবিধাজনক সময়ে জন্ম নেয়নি। তাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান।’ তিনি ছাত্রসমাজকে সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও তাদের অবশিষ্টাংশ এখনো ঘাপটি মেরে আছে। যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে, তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ছাত্রসমাজকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে, কারণ ইতিহাস বলে ছাত্ররা কখনো ঘুমায় না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্রদল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাবে।’

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু দেশের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি। জুলাইয়ের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ব্যবসার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হতে শুরু করেন। তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে এদিন কেবলই ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে জেগে ওঠার অঙ্গীকার।

বিষয় : আবু সাঈদ হত্যা মামলা ‘চীনের প্রাচীর অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


‘চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি’

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি যেন বুধবার প্রথম প্রহরে ফিরে এসেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মোমবাতির স্নিগ্ধ আলোয় চারিদিক তখন নিস্তব্ধ। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন শত শত নেতাকর্মী। জাতীয় সংগীতের সুরে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, এরপর শহীদদের স্মরণে জ্বলে ওঠে মোমবাতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। জুলাইয়ের সেই দিনগুলোর ভয়াবহতা ও ত্যাগের কথা মনে করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি।’

রিজভী আরও বলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো বুক চিতিয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। প্রশান্ত মহাসাগর না দেখলেও, শহীদ আনাসের মায়ের চোখের জলের দিকে তাকালে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা অনুভব করি।’ তাঁর মতে, জুলাইয়ের এই স্মৃতি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এই আলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো সুবিধাজনক সময়ে জন্ম নেয়নি। তাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান।’ তিনি ছাত্রসমাজকে সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও তাদের অবশিষ্টাংশ এখনো ঘাপটি মেরে আছে। যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে, তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ছাত্রসমাজকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে, কারণ ইতিহাস বলে ছাত্ররা কখনো ঘুমায় না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্রদল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাবে।’

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু দেশের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি। জুলাইয়ের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ব্যবসার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হতে শুরু করেন। তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে এদিন কেবলই ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে জেগে ওঠার অঙ্গীকার।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত