সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ: নিয়মিত ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই অংশ নিচ্ছেনা

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না। বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্যকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ:  নিয়মিত ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই অংশ নিচ্ছেনা
ছবি -সংগৃহীত

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই থেকে। সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার আনন্দের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার। এবারের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না, যা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও আশঙ্কাজনক।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে) একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এবারের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের মতো। অর্থাৎ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এই অনুপস্থিতির হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি, যা মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই প্রবণতা বিভিন্ন বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন হারে দেখা গেছে:

  • সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৩.০৪ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

  • মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: এখানে অনুপস্থিতির হার ৪৪.০৭ শতাংশ।

  • কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: কারিগরি বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪.৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরমই পূরণ করেননি।

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কেন এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছেন বা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর আপাতত শিক্ষা প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পূর্ববর্তী বিশ্লেষণ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাল্যবিবাহ, চরম দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রধান কারণ। এছাড়া, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার একটি বড় অনুষঙ্গ বলে মনে করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।

এবারের পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

অনুপস্থিতির এই উচ্চহার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ঝরে পড়ার এই কারণগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিষয় : এইচএসসি পরীক্ষা

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ: নিয়মিত ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই অংশ নিচ্ছেনা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই থেকে। সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার আনন্দের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার। এবারের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না, যা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও আশঙ্কাজনক।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে) একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এবারের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের মতো। অর্থাৎ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এই অনুপস্থিতির হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি, যা মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই প্রবণতা বিভিন্ন বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন হারে দেখা গেছে:

  • সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৩.০৪ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

  • মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: এখানে অনুপস্থিতির হার ৪৪.০৭ শতাংশ।

  • কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: কারিগরি বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪.৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরমই পূরণ করেননি।

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কেন এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছেন বা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর আপাতত শিক্ষা প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পূর্ববর্তী বিশ্লেষণ থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বাল্যবিবাহ, চরম দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রধান কারণ। এছাড়া, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার একটি বড় অনুষঙ্গ বলে মনে করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।

এবারের পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

অনুপস্থিতির এই উচ্চহার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ঝরে পড়ার এই কারণগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত