আন্তর্জাতিক
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তেহরানের আকাশ-বাতাস আজ ভারী হয়ে উঠেছে অশ্রু আর উত্তপ্ত স্লোগানে। ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে রাজধানী তেহরানে সমবেত হয়েছেন অগণিত মানুষ। তবে এই শোক কেবল কান্নায় সীমাবদ্ধ নয়, খামেনির মৃত্যুতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতি তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভ নিয়ে তারা ঘোষণা দিয়েছেন—এই হত্যার বিচার চাই।
শনিবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল শোকের জনসমুদ্রে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের চোখেমুখে ছিল হারাবার বেদনা আর মনে ছিল আগামীর অনিশ্চয়তা। হামাদান প্রদেশ থেকে আসা হামিদ তেইমোরি নামের এক নাগরিক নিজের অনুভূতি লুকাতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়া হামিদ বলেন, ‘আমার নিজের বাবা যখন মারা যান, তখনও আমি এতটা কষ্ট পাইনি, যতটা ভেঙে পড়েছি আমাদের নেতার শাহাদাতের খবর শুনে। এটা কেবল একজন শাসকের প্রস্থান নয়, আমাদের অভিভাবক হারানো।’
শোকের এই দিনে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল প্রতিশোধের হুংকার। আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সি এক নাগরিক রয়টার্সকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তাদের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের নেতার রক্তের বদলা নেব। আজ এখানে যারা এসেছেন, সবাই সর্বোচ্চ নেতার হত্যার বিচার দাবি করছেন। খামেনি নিজেই সবসময় বলে গেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা; তাই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক কখনই ভালো হওয়ার নয়।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে ইরান শাসন করা খামেনির এই জানাজাকে সরকার ভিন্নভাবে কাজে লাগাচ্ছে। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জমায়েতকে তুলে ধরছে তেহরান। তবে খামেনির আকস্মিক বিদায় ও মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার অভিযোগ কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ শোক নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক বড় ঘটনা। এই প্রতিশোধের আগুন ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
2.png)
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তেহরানের আকাশ-বাতাস আজ ভারী হয়ে উঠেছে অশ্রু আর উত্তপ্ত স্লোগানে। ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে রাজধানী তেহরানে সমবেত হয়েছেন অগণিত মানুষ। তবে এই শোক কেবল কান্নায় সীমাবদ্ধ নয়, খামেনির মৃত্যুতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতি তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভ নিয়ে তারা ঘোষণা দিয়েছেন—এই হত্যার বিচার চাই।
শনিবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল শোকের জনসমুদ্রে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের চোখেমুখে ছিল হারাবার বেদনা আর মনে ছিল আগামীর অনিশ্চয়তা। হামাদান প্রদেশ থেকে আসা হামিদ তেইমোরি নামের এক নাগরিক নিজের অনুভূতি লুকাতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়া হামিদ বলেন, ‘আমার নিজের বাবা যখন মারা যান, তখনও আমি এতটা কষ্ট পাইনি, যতটা ভেঙে পড়েছি আমাদের নেতার শাহাদাতের খবর শুনে। এটা কেবল একজন শাসকের প্রস্থান নয়, আমাদের অভিভাবক হারানো।’
শোকের এই দিনে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল প্রতিশোধের হুংকার। আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সি এক নাগরিক রয়টার্সকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তাদের পরবর্তী লক্ষ্যের কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের নেতার রক্তের বদলা নেব। আজ এখানে যারা এসেছেন, সবাই সর্বোচ্চ নেতার হত্যার বিচার দাবি করছেন। খামেনি নিজেই সবসময় বলে গেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা; তাই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক কখনই ভালো হওয়ার নয়।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে ইরান শাসন করা খামেনির এই জানাজাকে সরকার ভিন্নভাবে কাজে লাগাচ্ছে। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জমায়েতকে তুলে ধরছে তেহরান। তবে খামেনির আকস্মিক বিদায় ও মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার অভিযোগ কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ শোক নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক বড় ঘটনা। এই প্রতিশোধের আগুন ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
2.png)