রাজনীতি
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় কার্যকর করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে এখন আর কোনো আইনি আপিলের সুযোগ নেই।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তাঁর পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। তাই এখন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তবে তিনি কবে ফিরবেন, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, সরকারও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রী আপিলের বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ মামলায় আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।
আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ওই দিনের হামলায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি বলেন, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে হাঁটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি গড়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, দেশকে আর স্বৈরতন্ত্রের পথে নয়, গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় কার্যকর করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে এখন আর কোনো আইনি আপিলের সুযোগ নেই।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তাঁর পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। তাই এখন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তবে তিনি কবে ফিরবেন, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, সরকারও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রী আপিলের বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ মামলায় আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।
আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ওই দিনের হামলায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি বলেন, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে হাঁটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি গড়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, দেশকে আর স্বৈরতন্ত্রের পথে নয়, গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।
2.png)