আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন হাওয়া বইছে। এবার নিউইয়র্ক সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১২ আসনের লড়াইয়ে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান প্রার্থী হিসেবে ইতিহাসের পথে হাঁটছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে নিজের জায়গা করে নিতে মরিয়া এই নারী কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং বহু মানুষের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিপিনো-আমেরিকান অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা।
আবের কাওয়াসের এই লড়াই যতটা না রাজনীতির, তার চেয়ে অনেক বেশি আদর্শের। তার এই প্রচারণায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন জোহরান মামদানি। গত বছর এক অভাবনীয় নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে সাড়া ফেলেছিলেন মামদানি। এবার সেই মামদানি নিজেই আবেরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আবেরের হাত ধরেই নিউইয়র্কের রাজনীতিতে আরও এক ধাপ প্রগতিশীল পরিবর্তন আসবে।
কাওয়াসের লড়াইয়ের পেছনের গল্পটা অনেক বেশি মানবিক। ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের পর আমেরিকাজুড়ে যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি ভুক্তভোগী ছিলেন তিনি। নিজের বাবাকে মার্কিন অভিবাসন দপ্তর (আইসিই) কর্তৃক প্রায় তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রাখা এবং শেষ পর্যন্ত জর্ডানে পুশব্যাক করার তিক্ত স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ডিটেনশনের কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে মায়ের কান্নারত মুখটাই তাকে শিখিয়েছে—অধিকারের জন্য লড়তে হয়। ট্রাম্প আমলের অভিবাসন নীতি আর বর্ণবাদী দমনপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি এখন হাজারো অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠস্বর।
নিউইয়র্কের এই নির্বাচনে আবেরের ফিলিস্তিনি পরিচয়কে ঘিরে ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নানা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মানবাধিকারমূলক অতীত কাজগুলোকেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আবের এসবকে পরোয়া করছেন না। তিনি বরং মসজিদে সামাজিক কাজ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনীতির দৃশ্যপটে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। এর আগে পেনসিলভানিয়া বা নিউ জার্সির মতো রাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থীদের জয় তারই প্রমাণ। আবের কাওয়াস নিজেও মনে করেন, ক্ষমতার সামনে সত্য কথা বলার সাহসই এখন সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
তহবিলের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বার্নি স্যান্ডার্স এবং রাশিদা তলাইবের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের সমর্থন আবেরের সাহস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র অনুদানে চলা এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বিষয় : মার্কিন সিনেট আবের কাওয়াস
2.png)
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন হাওয়া বইছে। এবার নিউইয়র্ক সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১২ আসনের লড়াইয়ে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান প্রার্থী হিসেবে ইতিহাসের পথে হাঁটছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে নিজের জায়গা করে নিতে মরিয়া এই নারী কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং বহু মানুষের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিপিনো-আমেরিকান অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা।
আবের কাওয়াসের এই লড়াই যতটা না রাজনীতির, তার চেয়ে অনেক বেশি আদর্শের। তার এই প্রচারণায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন জোহরান মামদানি। গত বছর এক অভাবনীয় নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে সাড়া ফেলেছিলেন মামদানি। এবার সেই মামদানি নিজেই আবেরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আবেরের হাত ধরেই নিউইয়র্কের রাজনীতিতে আরও এক ধাপ প্রগতিশীল পরিবর্তন আসবে।
কাওয়াসের লড়াইয়ের পেছনের গল্পটা অনেক বেশি মানবিক। ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের পর আমেরিকাজুড়ে যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি ভুক্তভোগী ছিলেন তিনি। নিজের বাবাকে মার্কিন অভিবাসন দপ্তর (আইসিই) কর্তৃক প্রায় তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রাখা এবং শেষ পর্যন্ত জর্ডানে পুশব্যাক করার তিক্ত স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ডিটেনশনের কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে মায়ের কান্নারত মুখটাই তাকে শিখিয়েছে—অধিকারের জন্য লড়তে হয়। ট্রাম্প আমলের অভিবাসন নীতি আর বর্ণবাদী দমনপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি এখন হাজারো অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠস্বর।
নিউইয়র্কের এই নির্বাচনে আবেরের ফিলিস্তিনি পরিচয়কে ঘিরে ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নানা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মানবাধিকারমূলক অতীত কাজগুলোকেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আবের এসবকে পরোয়া করছেন না। তিনি বরং মসজিদে সামাজিক কাজ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনীতির দৃশ্যপটে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। এর আগে পেনসিলভানিয়া বা নিউ জার্সির মতো রাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থীদের জয় তারই প্রমাণ। আবের কাওয়াস নিজেও মনে করেন, ক্ষমতার সামনে সত্য কথা বলার সাহসই এখন সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
তহবিলের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বার্নি স্যান্ডার্স এবং রাশিদা তলাইবের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের সমর্থন আবেরের সাহস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র অনুদানে চলা এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
2.png)