আন্তর্জাতিক
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যদিও ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষকে এক টেবিলে আনার মতো নেতৃত্বগুণও তার আছে।
সম্প্রতি ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। এর পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এই পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রথমে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন অর্জন করতে হবে। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ভেটোই প্রার্থিতা আটকে দিতে পারে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় ইনফান্তিনোকে তিনি বেশি সক্ষম বলে মনে করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। বাশেলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির সম্ভাবনা রয়েছে, আর গ্রসির ক্ষেত্রে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘে দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য বজায় রেখে মহাসচিব নির্বাচনের একটি অলিখিত রীতি রয়েছে। সে হিসেবে এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই নীতি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বিভিন্ন দেশের সমর্থন পেলে ইনফান্তিনোর জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি মনে করেন, ইনফান্তিনোর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা জাতিসংঘের জন্য মূল্যবান হতে পারে। তার ভাষায়, ফিফার ২০০-এর বেশি সদস্যদেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বহুপাক্ষিক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা ইনফান্তিনোর রয়েছে। খেলাধুলাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজ ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরির সুযোগও তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তিনি সমালোচনাও করেছেন। গত বছর তার উদ্যোগে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন কাঠামো গঠনের পর অনেকে এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখলেও ট্রাম্প সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি ছিল, তিনি বরং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর দেখতে চান।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনো যদি সত্যিই জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন ও জাতিসংঘের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে আর্থিক দিক থেকে এটি তার জন্য লাভজনক হবে না। বর্তমানে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
অন্যদিকে ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির পদে আরেক মেয়াদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। আগামী মার্চে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
2.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যদিও ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষকে এক টেবিলে আনার মতো নেতৃত্বগুণও তার আছে।
সম্প্রতি ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। এর পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এই পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রথমে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন অর্জন করতে হবে। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ভেটোই প্রার্থিতা আটকে দিতে পারে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় ইনফান্তিনোকে তিনি বেশি সক্ষম বলে মনে করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। বাশেলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির সম্ভাবনা রয়েছে, আর গ্রসির ক্ষেত্রে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘে দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য বজায় রেখে মহাসচিব নির্বাচনের একটি অলিখিত রীতি রয়েছে। সে হিসেবে এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই নীতি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বিভিন্ন দেশের সমর্থন পেলে ইনফান্তিনোর জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি মনে করেন, ইনফান্তিনোর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা জাতিসংঘের জন্য মূল্যবান হতে পারে। তার ভাষায়, ফিফার ২০০-এর বেশি সদস্যদেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বহুপাক্ষিক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা ইনফান্তিনোর রয়েছে। খেলাধুলাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজ ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরির সুযোগও তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তিনি সমালোচনাও করেছেন। গত বছর তার উদ্যোগে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন কাঠামো গঠনের পর অনেকে এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখলেও ট্রাম্প সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি ছিল, তিনি বরং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর দেখতে চান।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনো যদি সত্যিই জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন ও জাতিসংঘের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে আর্থিক দিক থেকে এটি তার জন্য লাভজনক হবে না। বর্তমানে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
অন্যদিকে ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির পদে আরেক মেয়াদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। আগামী মার্চে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
2.png)