আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে কখনো কখনো ইতিহাস এমনভাবে ফিরে আসে, যা অনেককেই বিস্মিত করে। ভারতের সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘটনাটি তেমনই একটি উদাহরণ। যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন, প্রায় ২৯ বছর পর সেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কই তার মন্ত্রীত্বের ইতি টানল।
সময়টা ১৯৯৭ সাল। ওডিশা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায়। শিক্ষাব্যবস্থার এই অনিয়মের প্রতিবাদে ভুবনেশ্বরে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজপথে নামেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) তরুণ নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন তিনি। শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেলেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপের মুখে ওডিশা সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে বাধ্য হয়। সেই আন্দোলনই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এরপর কেটে যায় প্রায় তিন দশক। ২০২৬ সালে দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু ৫ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন চলে। আন্দোলনের চাপ এবং বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগের পর দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান পরিস্থিতিকে কোনো অপশক্তি যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় তাই এক বিরল বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে ইস্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি একদিন জাতীয় নেতৃত্বের কাতারে উঠে এসেছিলেন, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুর দায় নিয়েই তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হলো।
বিষয় : ধর্মেন্দ্র প্রধান
2.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
রাজনীতিতে কখনো কখনো ইতিহাস এমনভাবে ফিরে আসে, যা অনেককেই বিস্মিত করে। ভারতের সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘটনাটি তেমনই একটি উদাহরণ। যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন, প্রায় ২৯ বছর পর সেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কই তার মন্ত্রীত্বের ইতি টানল।
সময়টা ১৯৯৭ সাল। ওডিশা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায়। শিক্ষাব্যবস্থার এই অনিয়মের প্রতিবাদে ভুবনেশ্বরে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজপথে নামেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) তরুণ নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন তিনি। শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেলেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপের মুখে ওডিশা সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে বাধ্য হয়। সেই আন্দোলনই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এরপর কেটে যায় প্রায় তিন দশক। ২০২৬ সালে দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু ৫ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন চলে। আন্দোলনের চাপ এবং বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগের পর দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান পরিস্থিতিকে কোনো অপশক্তি যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় তাই এক বিরল বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে ইস্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি একদিন জাতীয় নেতৃত্বের কাতারে উঠে এসেছিলেন, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুর দায় নিয়েই তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হলো।
2.png)