সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

হরমুজ প্রণালি বন্ধ: জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ফের দুশ্চিন্তায় সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিতে বড় ঝুঁকির মুখে দেশ; অতীতের বিপুল লোকসান মাথায় নিয়ে এখন নতুন কৌশলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ: জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ফের দুশ্চিন্তায় সরকার
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক এই অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

এর আগেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ লেগেছিল দেশের অর্থনীতিতে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেল ও এলএনজি বেশি দামে আমদানি করে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় সরকারকে গুনতে হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার লোকসান। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত শুধু তেল আমদানিতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গচ্চা দিতে হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববাজারে যদি আবারও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়, তবে বাংলাদেশ আবারও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই সংকটের মুখেও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার নতুন পথ বেছে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জি-টু-জি’ (সরকার টু সরকার) প্রক্রিয়ায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি সরবরাহকারী কোম্পানির সাথে সমঝোতাও সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় এই প্রক্রিয়ায় জাহাজ ভাড়ার প্রিমিয়াম বাবদ প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এলএনজি সরবরাহ নিয়ে বেশ খানিকটা অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় গত মার্চ মাস থেকে কোনো কোম্পানি এলএনজি সরবরাহ করছে না। ফলে পেট্রোবাংলাকে এখন পুরোপুরি স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। তিনি জানান, যুদ্ধের তীব্রতায় গত মার্চে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলারে কিনতে হলেও যুদ্ধবিরতির সুবাদে গত সপ্তাহে তা ১৬ থেকে ১৭ ডলারে নেমে এসেছিল। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে আশার কথা হলো, জ্বালানি তেলের মজুদ আপাতত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত তাদের ডিপোগুলোতে ৪ লাখ ১৪ হাজার টন ডিজেল মজুদ আছে, যা দিয়ে দেশের চাহিদা আগামী ৩৪ দিন মেটানো সম্ভব। এছাড়া অকটেনের মজুদ আছে ৪০ দিনের মতো। বিপিসির আমদানি সূচি অনুযায়ী, এ মাসে আরও ৮ থেকে ১০টি ডিজেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মার্চের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ডিপোগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য এখন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। গত চার মাসে জ্বালানি তেলের ভর্তুকি বাবদ কোনো বরাদ্দ না মেলায় সংস্থাটি নিজস্ব তহবিল থেকেই আমদানির খরচ মেটাচ্ছে। এখন বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই আমদানি প্রক্রিয়া কতটা মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিষয় : জ্বালানি তেলের সংকট

কাল মহাকাল

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


হরমুজ প্রণালি বন্ধ: জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ফের দুশ্চিন্তায় সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক এই অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

এর আগেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ লেগেছিল দেশের অর্থনীতিতে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেল ও এলএনজি বেশি দামে আমদানি করে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় সরকারকে গুনতে হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার লোকসান। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত শুধু তেল আমদানিতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গচ্চা দিতে হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববাজারে যদি আবারও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়, তবে বাংলাদেশ আবারও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই সংকটের মুখেও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার নতুন পথ বেছে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জি-টু-জি’ (সরকার টু সরকার) প্রক্রিয়ায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি সরবরাহকারী কোম্পানির সাথে সমঝোতাও সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় এই প্রক্রিয়ায় জাহাজ ভাড়ার প্রিমিয়াম বাবদ প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এলএনজি সরবরাহ নিয়ে বেশ খানিকটা অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় গত মার্চ মাস থেকে কোনো কোম্পানি এলএনজি সরবরাহ করছে না। ফলে পেট্রোবাংলাকে এখন পুরোপুরি স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। তিনি জানান, যুদ্ধের তীব্রতায় গত মার্চে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলারে কিনতে হলেও যুদ্ধবিরতির সুবাদে গত সপ্তাহে তা ১৬ থেকে ১৭ ডলারে নেমে এসেছিল। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে আশার কথা হলো, জ্বালানি তেলের মজুদ আপাতত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত তাদের ডিপোগুলোতে ৪ লাখ ১৪ হাজার টন ডিজেল মজুদ আছে, যা দিয়ে দেশের চাহিদা আগামী ৩৪ দিন মেটানো সম্ভব। এছাড়া অকটেনের মজুদ আছে ৪০ দিনের মতো। বিপিসির আমদানি সূচি অনুযায়ী, এ মাসে আরও ৮ থেকে ১০টি ডিজেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মার্চের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ডিপোগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য এখন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। গত চার মাসে জ্বালানি তেলের ভর্তুকি বাবদ কোনো বরাদ্দ না মেলায় সংস্থাটি নিজস্ব তহবিল থেকেই আমদানির খরচ মেটাচ্ছে। এখন বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই আমদানি প্রক্রিয়া কতটা মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত