অর্থনীতি
জাতীয় বাজেট পেশের পরপরই অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া সাধারণত বিশ্লেষণধর্মী হয়। কিন্তু এবারের বাজেটের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। দেশের অন্যতম বড় সমালোচক হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যখন বাজেট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “সবচেয়ে চিন্তাশীল এবং মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টা হয়েছে এবার,” তখন তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট গঠনমূলক সমালোচনা করে আসা এই অর্থনীতিবিদের কণ্ঠে এমন প্রশংসা সাধারণ ঘটনা নয়। এবারের বাজেটে উদারীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং যুবসমাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দসহ নানা উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার এই সমর্থন অর্থনীতিবিদ মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবার হয়তো সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত এই বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেকর্ড বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে নেওয়া হয়েছে মেগা পরিকল্পনা। অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই বাজেটকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যখন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্য রাখতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই রাজধানীর রাজপথে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বাজেট ঘোষণার পরপরই রাজপথে নেমে আসে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান ছিল—‘গরিব মারার বাজেট’।
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড বরাদ্দের মতো বিষয়গুলো যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, সেখানে কেন এই প্রতিবাদ? এমন প্রশ্নে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়নের এই বিশাল রূপরেখাকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার অংশ। অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ যেখানে নতুন বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আশাবাদী, সেখানে মাঠপর্যায়ের এমন বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের মনে তৈরি করেছে ধোঁয়াশা।
বাজেট বাস্তবায়নের এই দীর্ঘ পথচলায় শেষ পর্যন্ত কী পরিবর্তন আসে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে উন্নয়নের রূপরেখা ও রাজপথের বিরোধিতার এই বিপরীতমুখী অবস্থান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
বিষয় : বাজেট ২০২৬ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
2.png)
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
জাতীয় বাজেট পেশের পরপরই অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া সাধারণত বিশ্লেষণধর্মী হয়। কিন্তু এবারের বাজেটের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। দেশের অন্যতম বড় সমালোচক হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যখন বাজেট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “সবচেয়ে চিন্তাশীল এবং মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টা হয়েছে এবার,” তখন তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট গঠনমূলক সমালোচনা করে আসা এই অর্থনীতিবিদের কণ্ঠে এমন প্রশংসা সাধারণ ঘটনা নয়। এবারের বাজেটে উদারীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং যুবসমাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দসহ নানা উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার এই সমর্থন অর্থনীতিবিদ মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবার হয়তো সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত এই বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেকর্ড বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে নেওয়া হয়েছে মেগা পরিকল্পনা। অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই বাজেটকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যখন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্য রাখতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই রাজধানীর রাজপথে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বাজেট ঘোষণার পরপরই রাজপথে নেমে আসে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান ছিল—‘গরিব মারার বাজেট’।
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড বরাদ্দের মতো বিষয়গুলো যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, সেখানে কেন এই প্রতিবাদ? এমন প্রশ্নে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়নের এই বিশাল রূপরেখাকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার অংশ। অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ যেখানে নতুন বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আশাবাদী, সেখানে মাঠপর্যায়ের এমন বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের মনে তৈরি করেছে ধোঁয়াশা।
বাজেট বাস্তবায়নের এই দীর্ঘ পথচলায় শেষ পর্যন্ত কী পরিবর্তন আসে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে উন্নয়নের রূপরেখা ও রাজপথের বিরোধিতার এই বিপরীতমুখী অবস্থান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
2.png)