জাতীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই দিনে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেয় বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি)। দলটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি।
তার ভাষ্য, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সাংবিধানিক ক্ষমতার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারতেন। এমনকি প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগের সুযোগও ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে নীরব ছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক আইনে প্রচলিত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার নীতির আওতায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হাসিনুর রহমান বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে একই দিন সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেটি সেই সময়কার বিষয়। বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত টেলিফোন যোগাযোগ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব। তাই শুধু টেলিফোনে কথা বলার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দাবি তার কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন রথযাত্রা ও উল্টো রথ উপলক্ষে সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উৎসব দুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুবাই কর্তৃপক্ষ যেসব নথি চেয়েছে, সরকার সেগুলো ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের সেবা করবেন, সরকার তাদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
2.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই দিনে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেয় বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি)। দলটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি।
তার ভাষ্য, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সাংবিধানিক ক্ষমতার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারতেন। এমনকি প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগের সুযোগও ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে নীরব ছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক আইনে প্রচলিত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার নীতির আওতায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
হাসিনুর রহমান বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে একই দিন সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেটি সেই সময়কার বিষয়। বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত টেলিফোন যোগাযোগ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব। তাই শুধু টেলিফোনে কথা বলার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দাবি তার কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন রথযাত্রা ও উল্টো রথ উপলক্ষে সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উৎসব দুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুবাই কর্তৃপক্ষ যেসব নথি চেয়েছে, সরকার সেগুলো ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের সেবা করবেন, সরকার তাদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
2.png)