বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশের চাংমা বেসিন। জীবাশ্মবিদদের কাছে এই অঞ্চলটি বহু আগে থেকেই প্রাচীন পাখির ফসিল বা জীবাশ্মের আকর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন ১২ কোটি বছর আগের এক বিস্ময়কর প্রাণীর অবশেষ। এটি মাইক্রোর্যাপ্টর গোত্রের একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিয়ান চ্যাংমায়েনসিস’ (Jian changmaensis)। চাংমা বেসিনের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো অ-পাখি ডাইনোসরের জীবাশ্ম, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রকৃতির রহস্যময় খেলায় এই ডাইনোসরটি যেন এক বিস্ময়। এর শরীরজুড়ে ছিল পালকের অদ্ভুত এক বুনন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর অঙ্গসংস্থান; সামনের দুই হাত আর পেছনের দুই পায়ে লম্বা পালকের এমন বিন্যাস ছিল যে, দূর থেকে দেখলে এটিকে চারটি ডানার প্রাণী বলে ভ্রম হতো। গবেষকদের মতে, এই শারীরিক গঠন তাকে গাছ থেকে গাছে গ্লাইড করে চলাচলে সাহায্য করত। অনেকটা উড়ন্ত কাঠবিড়ালির মতো আকাশ জয়ের এক আদিম প্রচেষ্টা হয়তো লুকিয়ে ছিল এই প্রাণীর শরীরবৃত্তে।
বিজ্ঞানীরা এই প্রজাতিটির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে অনুমান করেছেন, তা বেশ চমকপ্রদ। এই মাইক্রোর্যাপ্টররা সম্ভবত শিকারি প্রকৃতির ছিল এবং সেই সুদূর অতীতে এরা প্রাচীন পাখি শিকার করে জীবনধারণ করত। যদিও এটি সরাসরি কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, তবে সমগোত্রীয় অন্যান্য প্রজাতির জীবনধারা ও জীবাশ্মের গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এটি কেবল একটি ডাইনোসরের দেহাবশেষ নয়, বরং ডাইনোসর থেকে পাখিতে বিবর্তনের যে দীর্ঘ যাত্রা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী ধাপ।
উড্ডয়ন বা আকাশে ওড়ার ক্ষমতা কীভাবে প্রাণীর মাঝে বিকশিত হয়েছিল, তা বোঝার জন্য এই জীবাশ্মটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে এক মূল্যবান গবেষণার উপাদান। চাংমা বেসিনে এমন প্রাণীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ডাইনোসরদের পৃথিবীতে পাখির মতো ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্নটি বহুকাল আগেই অঙ্কুরিত হয়েছিল। জিয়ান চ্যাংমায়েনসিসের আবিষ্কার আমাদের জানায়, বিবর্তন কেবল একটি ধাপে সম্পন্ন হয়নি, বরং ছোট ছোট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রাণীরা ক্রমাগত নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এই আবিষ্কার ডাইনোসর এবং পাখির মধ্যকার যে ধূসর পর্দা, তা সরিয়ে দিতে এক বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
বিষয় : ৪ পাখার ডাইনোসর চিন
2.png)
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশের চাংমা বেসিন। জীবাশ্মবিদদের কাছে এই অঞ্চলটি বহু আগে থেকেই প্রাচীন পাখির ফসিল বা জীবাশ্মের আকর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন ১২ কোটি বছর আগের এক বিস্ময়কর প্রাণীর অবশেষ। এটি মাইক্রোর্যাপ্টর গোত্রের একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিয়ান চ্যাংমায়েনসিস’ (Jian changmaensis)। চাংমা বেসিনের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো অ-পাখি ডাইনোসরের জীবাশ্ম, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রকৃতির রহস্যময় খেলায় এই ডাইনোসরটি যেন এক বিস্ময়। এর শরীরজুড়ে ছিল পালকের অদ্ভুত এক বুনন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর অঙ্গসংস্থান; সামনের দুই হাত আর পেছনের দুই পায়ে লম্বা পালকের এমন বিন্যাস ছিল যে, দূর থেকে দেখলে এটিকে চারটি ডানার প্রাণী বলে ভ্রম হতো। গবেষকদের মতে, এই শারীরিক গঠন তাকে গাছ থেকে গাছে গ্লাইড করে চলাচলে সাহায্য করত। অনেকটা উড়ন্ত কাঠবিড়ালির মতো আকাশ জয়ের এক আদিম প্রচেষ্টা হয়তো লুকিয়ে ছিল এই প্রাণীর শরীরবৃত্তে।
বিজ্ঞানীরা এই প্রজাতিটির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে অনুমান করেছেন, তা বেশ চমকপ্রদ। এই মাইক্রোর্যাপ্টররা সম্ভবত শিকারি প্রকৃতির ছিল এবং সেই সুদূর অতীতে এরা প্রাচীন পাখি শিকার করে জীবনধারণ করত। যদিও এটি সরাসরি কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, তবে সমগোত্রীয় অন্যান্য প্রজাতির জীবনধারা ও জীবাশ্মের গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এটি কেবল একটি ডাইনোসরের দেহাবশেষ নয়, বরং ডাইনোসর থেকে পাখিতে বিবর্তনের যে দীর্ঘ যাত্রা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী ধাপ।
উড্ডয়ন বা আকাশে ওড়ার ক্ষমতা কীভাবে প্রাণীর মাঝে বিকশিত হয়েছিল, তা বোঝার জন্য এই জীবাশ্মটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে এক মূল্যবান গবেষণার উপাদান। চাংমা বেসিনে এমন প্রাণীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ডাইনোসরদের পৃথিবীতে পাখির মতো ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্নটি বহুকাল আগেই অঙ্কুরিত হয়েছিল। জিয়ান চ্যাংমায়েনসিসের আবিষ্কার আমাদের জানায়, বিবর্তন কেবল একটি ধাপে সম্পন্ন হয়নি, বরং ছোট ছোট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রাণীরা ক্রমাগত নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এই আবিষ্কার ডাইনোসর এবং পাখির মধ্যকার যে ধূসর পর্দা, তা সরিয়ে দিতে এক বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
2.png)