সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

ক্ষতিপূরণের আশ্বাসে স্বাভাবিক হলো জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম,১০ দিন পর খুলল তালা

অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্য পরিশোধের আশ্বাসের পর সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খুলে দিয়েছেন ইউএনও। প্রশাসন জানিয়েছে, ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক এবং ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করা হবে।

ক্ষতিপূরণের আশ্বাসে স্বাভাবিক হলো জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম,১০ দিন পর খুলল তালা
ছবি -সংগৃহীত

অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ড। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ভূমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন। এ সময় ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মোস্তাফা আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে ভূমির মালিকরা গ্যাসফিল্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ ভূমির মালিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেন এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করেন। আলোচনায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক ভূমির মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থও পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনকারীরা গ্যাসফিল্ডের তালা খুলে দিতে সম্মত হন। পরে ইউএনওর উপস্থিতিতেই প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয় এবং গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জকিগঞ্জ পৌরসভার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন প্রায় ১৬ কেদার (কিয়ার) জমি অধিগ্রহণ করে। এরপর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।

ভূমির মালিকদের দাবি, জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে শুরু থেকেই তারা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত বৈঠক হলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্যাসফিল্ডে তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ইকবাল আহমদ তাপাদার বলেন, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ভূমির মালিকদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। এছাড়া সব ধরনের জটিলতা নিরসন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে গ্যাসফিল্ডের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে।

বিষয় : জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ড

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


ক্ষতিপূরণের আশ্বাসে স্বাভাবিক হলো জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম,১০ দিন পর খুলল তালা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাসফিল্ড। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ভূমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন। এ সময় ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মোস্তাফা আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে ভূমির মালিকরা গ্যাসফিল্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ ভূমির মালিকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেন এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করেন। আলোচনায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক ভূমির মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থও পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনকারীরা গ্যাসফিল্ডের তালা খুলে দিতে সম্মত হন। পরে ইউএনওর উপস্থিতিতেই প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয় এবং গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জকিগঞ্জ পৌরসভার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন প্রায় ১৬ কেদার (কিয়ার) জমি অধিগ্রহণ করে। এরপর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।

ভূমির মালিকদের দাবি, জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে শুরু থেকেই তারা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত বৈঠক হলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্যাসফিল্ডে তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ইকবাল আহমদ তাপাদার বলেন, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ভূমির মালিকদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। এছাড়া সব ধরনের জটিলতা নিরসন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে গ্যাসফিল্ডের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত