সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

মহাকাশে গেলেন, ফিরে এসে দেখলেন দেশটাই উধাও!

​গল্পটা শুনলে মনে হবে কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য, কিন্তু এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য বাস্তব ঘটনা।

মহাকাশে গেলেন, ফিরে এসে দেখলেন দেশটাই উধাও!
ছবি- সংগৃহীত

১৯৯১ সালের কথা। রাশিয়ার নভোচারী সের্গেই ক্রিকালেভ ৫ মাসের একটি মিশনে মহাকাশে গেলেন। তার কাজ ছিল 'মির' নামক স্পেস স্টেশনে থাকা। কিন্তু তিনি যখন মহাকাশে, তখন পৃথিবীতে ঘটে গেল এক বড় ঘটনা। পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন পুরোপুরি ভেঙে গেল! ১৫টি নতুন রাষ্ট্র তৈরি হলো।

​এদিকে মহাকাশে আটকে পড়া ক্রিকালেভকে নিচে নামিয়ে আনার মতো কেউ নেই, টাকাও নেই। তার ৫ মাসের মিশন বাধ্য হয়ে বেড়ে ১০ মাস হয়ে গেল।

ছোট্ট একটা স্টেশনে একা-একা কাটছিল তার দিন। যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল একটা রেডিও। সেটা দিয়ে পৃথিবীর মানুষের সাথে কথা বলতেন। একবার তিনি খুব করে মধু খেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পাঠানোর মতো অবস্থা তখন কারো নেই। উল্টো রকেটে করে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল লেবু!

​অবশেষে ১০ মাস পর ১৯৯২ সালে তিনি পৃথিবীতে ফিরলেন। যখন ক্যাপসুল থেকে বের হলেন, দেখলেন সব বদলে গেছে।

​যে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে তিনি গিয়েছিলেন, তা তখন অতীত। ​তার শহরের নাম বদলে গেছে।​তার নিজের দেশের আয়তন অনেক কমে গেছে। ​সব মিলিয়ে তিনি যখন মহাকাশে যান তখন তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক, আর যখন নামলেন তখন তিনি হয়ে গেলেন এক ভিন্ন দেশের বাসিন্দা!

এজন্য ইতিহাস তাকে চেনে ‘শেষ সোভিয়েত নাগরিক’ হিসেবে। এত বড় ঘটনার শিকার হয়েও মহাকাশের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। তিনি পরবর্তীতে আবারও মহাকাশে গেছেন এবং মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর রেকর্ডও করেছিলেন।

​একজন মানুষের জীবন আর রাজনীতির খেলা যে কত অদ্ভুত হতে পারে, সের্গেই ক্রিকালেভের এই ঘটনাটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

মহাকাশে গেলেন, ফিরে এসে দেখলেন দেশটাই উধাও!
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


মহাকাশে গেলেন, ফিরে এসে দেখলেন দেশটাই উধাও!

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

১৯৯১ সালের কথা। রাশিয়ার নভোচারী সের্গেই ক্রিকালেভ ৫ মাসের একটি মিশনে মহাকাশে গেলেন। তার কাজ ছিল 'মির' নামক স্পেস স্টেশনে থাকা। কিন্তু তিনি যখন মহাকাশে, তখন পৃথিবীতে ঘটে গেল এক বড় ঘটনা। পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন পুরোপুরি ভেঙে গেল! ১৫টি নতুন রাষ্ট্র তৈরি হলো।

​এদিকে মহাকাশে আটকে পড়া ক্রিকালেভকে নিচে নামিয়ে আনার মতো কেউ নেই, টাকাও নেই। তার ৫ মাসের মিশন বাধ্য হয়ে বেড়ে ১০ মাস হয়ে গেল।

ছোট্ট একটা স্টেশনে একা-একা কাটছিল তার দিন। যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল একটা রেডিও। সেটা দিয়ে পৃথিবীর মানুষের সাথে কথা বলতেন। একবার তিনি খুব করে মধু খেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পাঠানোর মতো অবস্থা তখন কারো নেই। উল্টো রকেটে করে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল লেবু!

​অবশেষে ১০ মাস পর ১৯৯২ সালে তিনি পৃথিবীতে ফিরলেন। যখন ক্যাপসুল থেকে বের হলেন, দেখলেন সব বদলে গেছে।

​যে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে তিনি গিয়েছিলেন, তা তখন অতীত। ​তার শহরের নাম বদলে গেছে।​তার নিজের দেশের আয়তন অনেক কমে গেছে। ​সব মিলিয়ে তিনি যখন মহাকাশে যান তখন তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক, আর যখন নামলেন তখন তিনি হয়ে গেলেন এক ভিন্ন দেশের বাসিন্দা!

এজন্য ইতিহাস তাকে চেনে ‘শেষ সোভিয়েত নাগরিক’ হিসেবে। এত বড় ঘটনার শিকার হয়েও মহাকাশের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। তিনি পরবর্তীতে আবারও মহাকাশে গেছেন এবং মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর রেকর্ডও করেছিলেন।

​একজন মানুষের জীবন আর রাজনীতির খেলা যে কত অদ্ভুত হতে পারে, সের্গেই ক্রিকালেভের এই ঘটনাটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত