সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক ডুবলে ডুববে অর্থনীতি: ডা.শফিকুর রহমান

শেয়ার জবরদখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংসদে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। আস্থার এই পিরামিড টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করলেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংক ডুবলে ডুববে অর্থনীতি: ডা.শফিকুর রহমান
ছবি -সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে দেশের পুরো অর্থনীতিই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে জাতীয় সংসদে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং ব্যাংক লুণ্ঠনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শেয়ার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, অবিলম্বে সেসব শেয়ার তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে, এস আলমের অপকর্মের দোসর হিসেবে পরিচিত এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে, বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের পাল্টা জবাবে ডা. শফিকুর রহমান সংসদে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দলের নির্বাচনী তহবিলে ৭০০ কোটি টাকা লোনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খণ্ডন করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দিতে পারলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেডেল দেবেন। তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে থাকলেও যেন তাকে ছাড় দেওয়া না হয়, আইনের শাসন সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত।

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি ব্যাংক নয়, এটি মানুষের আস্থার একটি বিশাল পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়া মানে ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং গত চার দিনে ৭০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এটি যে ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি অনুরোধ জানান, কোনো পূর্বধারণা নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখেই ব্যাংকটিকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে যদি সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকটি ধসে পড়ে, তবে সাধারণ আমানতকারীরা তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে রাস্তায় বসবে। ব্যাংকিং খাতের এই আস্থার সংকট নিরসনে এবং ব্যাংকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিষয় : ইসলামি ব্যাংক ডা. শফিকুর রহমান

ইসলামী ব্যাংক ডুবলে ডুববে অর্থনীতি: ডা.শফিকুর রহমান
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬


ইসলামী ব্যাংক ডুবলে ডুববে অর্থনীতি: ডা.শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামী ব্যাংক যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে দেশের পুরো অর্থনীতিই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে জাতীয় সংসদে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং ব্যাংক লুণ্ঠনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শেয়ার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, অবিলম্বে সেসব শেয়ার তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে, এস আলমের অপকর্মের দোসর হিসেবে পরিচিত এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে, বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের পাল্টা জবাবে ডা. শফিকুর রহমান সংসদে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দলের নির্বাচনী তহবিলে ৭০০ কোটি টাকা লোনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খণ্ডন করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দিতে পারলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেডেল দেবেন। তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে থাকলেও যেন তাকে ছাড় দেওয়া না হয়, আইনের শাসন সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত।

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি ব্যাংক নয়, এটি মানুষের আস্থার একটি বিশাল পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়া মানে ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং গত চার দিনে ৭০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এটি যে ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি অনুরোধ জানান, কোনো পূর্বধারণা নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখেই ব্যাংকটিকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে যদি সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকটি ধসে পড়ে, তবে সাধারণ আমানতকারীরা তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে রাস্তায় বসবে। ব্যাংকিং খাতের এই আস্থার সংকট নিরসনে এবং ব্যাংকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত