সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য ও নতুন সহযোগিতার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; শ্রমবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে এবার শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য।

ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য ও নতুন সহযোগিতার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক
ছবি -সংগৃহীত

দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় নিজের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পুত্রজায়ায় তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখে ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়াকে কূটনৈতিক মহলে একটি কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরের মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে শ্রমবাজারের চিরাচরিত আলোচনার পাশাপাশি এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং হালাল অর্থনীতির মতো উচ্চতর খাতগুলোতে। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই নেতার একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শ্রমবাজার থেকে প্রযুক্তি-নির্ভর অংশীদারিত্ব

এতদিন মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল ‘কর্মী প্রেরণের’ বৃত্তে আটকে থাকলেও, এবার সেই ধারণা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ‘নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাস্টারপ্ল্যান ২০৩০’-এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে এখন দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর অধিকার সুরক্ষা ও নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

শিক্ষা ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। এই সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে পেট্রোনাস, এয়ার এশিয়া ও এমএমসি পোর্টসের প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকের সূচি রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক গুরুত্ব

কেন এই প্রথম সফর মালয়েশিয়ায়? বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও চীনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অংশ। এছাড়া আসিয়ানের (ASEAN) সদস্য দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রভাব এবং বিশ্বের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক চুক্তি ‘আরসেপ’ (RCEP)-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পথে মালয়েশিয়ার সমর্থন আদায় করাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। রোহিঙ্গা সংকটে দীর্ঘদিনের সহযোগী মালয়েশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা রয়েছে।

অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল প্রবাসী শ্রমের কাঠামোয় না দেখে ‘দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি’ নির্ভর অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দেখা এখন সময়ের দাবি। মালয়েশিয়ার উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের সম্পৃক্ত করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দিনের সফল সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলেই চীনের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর ত্যাগ করবেন, যা বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর

ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য ও নতুন সহযোগিতার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য ও নতুন সহযোগিতার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় নিজের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পুত্রজায়ায় তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখে ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়াকে কূটনৈতিক মহলে একটি কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরের মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে শ্রমবাজারের চিরাচরিত আলোচনার পাশাপাশি এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং হালাল অর্থনীতির মতো উচ্চতর খাতগুলোতে। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই নেতার একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শ্রমবাজার থেকে প্রযুক্তি-নির্ভর অংশীদারিত্ব

এতদিন মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল ‘কর্মী প্রেরণের’ বৃত্তে আটকে থাকলেও, এবার সেই ধারণা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ‘নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাস্টারপ্ল্যান ২০৩০’-এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে এখন দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর অধিকার সুরক্ষা ও নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

শিক্ষা ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। এই সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে পেট্রোনাস, এয়ার এশিয়া ও এমএমসি পোর্টসের প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকের সূচি রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক গুরুত্ব

কেন এই প্রথম সফর মালয়েশিয়ায়? বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও চীনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অংশ। এছাড়া আসিয়ানের (ASEAN) সদস্য দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রভাব এবং বিশ্বের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক চুক্তি ‘আরসেপ’ (RCEP)-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পথে মালয়েশিয়ার সমর্থন আদায় করাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। রোহিঙ্গা সংকটে দীর্ঘদিনের সহযোগী মালয়েশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা রয়েছে।

অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল প্রবাসী শ্রমের কাঠামোয় না দেখে ‘দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি’ নির্ভর অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দেখা এখন সময়ের দাবি। মালয়েশিয়ার উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের সম্পৃক্ত করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দিনের সফল সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলেই চীনের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর ত্যাগ করবেন, যা বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত