সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বাংলাদেশবাংলাদেশ

বিদ্যুতের তারের টাকায় ডিপিডিসির বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার!

ভূগর্ভস্থ তারের প্রকল্পের টাকা খরচ করে কর্মকর্তাদের আবাসন ও জিম-সুইমিং পুল তৈরির অভিযোগে ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিদ্যুতের তারের টাকায় ডিপিডিসির বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার!
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ঝাঁ-চকচকে একটি স্থাপনা। একে একে গড়ে তোলা হচ্ছে টুইন টাওয়ার। সুইমিং পুল আছে, আছে আধুনিক জিমনেসিয়াম—সব মিলিয়ে যেন এক বিলাসবহুল রিসোর্ট। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে কোনো বড় আবাসন ব্যবসায়ীর প্রকল্প, কিন্তু না। এই ভবনটি তৈরি হচ্ছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। আর এই বিলাসিতার খরচ মেটানো হচ্ছে বিদ্যুতের ভূগর্ভস্থ তারের প্রকল্পের টাকা থেকে।

এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুতের তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাদ দিয়ে ডিপিডিসি এখন নিজেদের কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি করছে এই বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার। সব চেয়ে বড় কৌতুক বা কষ্টের বিষয় হলো, যে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনছে, তারাই আবার কর্মকর্তাদের জন্য সুইমিং পুল-জিমসহ এমন রাজকীয় আবাসনের আয়োজন করছে।

প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী কিছুটা অসহায়ত্বের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে এটি চাইলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর কোনো জায়গায় ৫০ শতাংশ, আবার কোথাও ৬০ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন কাজ বন্ধ করে দিলে সেই টাকার কী হবে, তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

জনগণের করের টাকায় এই ধরণের অপচয় এবং প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের এমন নজির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিরল। যে বিদ্যুতের লাইন ঠিক করার জন্য এই বরাদ্দ ছিল, তা আজ বিলাসিতার ভবনে রূপ নিয়েছে। মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এমন বিলাসিতার খরচ সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? তবে এই অপচয়ের দায় কে নেবে বা কীভাবে এর সুরাহা হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো পথ আপাতত কর্তৃপক্ষের সামনে নেই।

বিষয় : ডিপিডিসির বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিদ্যুতের তারের টাকায় ডিপিডিসির বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার!
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বিদ্যুতের তারের টাকায় ডিপিডিসির বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর শাহবাগে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ঝাঁ-চকচকে একটি স্থাপনা। একে একে গড়ে তোলা হচ্ছে টুইন টাওয়ার। সুইমিং পুল আছে, আছে আধুনিক জিমনেসিয়াম—সব মিলিয়ে যেন এক বিলাসবহুল রিসোর্ট। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে কোনো বড় আবাসন ব্যবসায়ীর প্রকল্প, কিন্তু না। এই ভবনটি তৈরি হচ্ছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। আর এই বিলাসিতার খরচ মেটানো হচ্ছে বিদ্যুতের ভূগর্ভস্থ তারের প্রকল্পের টাকা থেকে।

এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুতের তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাদ দিয়ে ডিপিডিসি এখন নিজেদের কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি করছে এই বিলাসবহুল টুইন টাওয়ার। সব চেয়ে বড় কৌতুক বা কষ্টের বিষয় হলো, যে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনছে, তারাই আবার কর্মকর্তাদের জন্য সুইমিং পুল-জিমসহ এমন রাজকীয় আবাসনের আয়োজন করছে।

প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী কিছুটা অসহায়ত্বের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে এটি চাইলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর কোনো জায়গায় ৫০ শতাংশ, আবার কোথাও ৬০ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন কাজ বন্ধ করে দিলে সেই টাকার কী হবে, তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

জনগণের করের টাকায় এই ধরণের অপচয় এবং প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের এমন নজির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিরল। যে বিদ্যুতের লাইন ঠিক করার জন্য এই বরাদ্দ ছিল, তা আজ বিলাসিতার ভবনে রূপ নিয়েছে। মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এমন বিলাসিতার খরচ সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? তবে এই অপচয়ের দায় কে নেবে বা কীভাবে এর সুরাহা হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো পথ আপাতত কর্তৃপক্ষের সামনে নেই।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত