আইন-কানুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানালেও, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলছেন, কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের নয়, বরং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ দিয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি নথিপত্র শেয়ার করে শিশির মনির দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গত ৪ জুন যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাতে লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করা হয় HSM 4310059। তার ভাষ্যমতে, এই নম্বরটি হাসপাতালটির প্যাথলজি ল্যাবের, মূল হাসপাতালের নয়। শিশির মনিরের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রকৃত লাইসেন্স নম্বর হলো HSM 4310058। তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা নাকি পরিকল্পিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় গত ২৭ মে’র সেই মর্মান্তিক ঘটনায়। সে সময় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের অভাব ছিল এবং কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। এই ঘটনার পরই কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্ধারিত সময়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক মনে করেনি কর্তৃপক্ষ।
তবে আইনজীবী শিশির মনিরের এই দাবিকে পাত্তা দিতে নারাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, আদেশে স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের কৌশল বা বিতর্ক তুলে কোনো লাভ হবে না। প্রয়োজনে আদেশে সংশোধন আনা হবে, তবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অটল। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও একই সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, হাসপাতালটির বর্তমানে কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, তাই রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া উচিত হবে না।
আইন অনুযায়ী, এই আদেশের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই জটিলতা এবং লাইসেন্স বাতিলের বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।
বিষয় : আদ-দ্বীন শিশির মনির
2.png)
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানালেও, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলছেন, কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের নয়, বরং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ দিয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি নথিপত্র শেয়ার করে শিশির মনির দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গত ৪ জুন যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাতে লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করা হয় HSM 4310059। তার ভাষ্যমতে, এই নম্বরটি হাসপাতালটির প্যাথলজি ল্যাবের, মূল হাসপাতালের নয়। শিশির মনিরের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রকৃত লাইসেন্স নম্বর হলো HSM 4310058। তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা নাকি পরিকল্পিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় গত ২৭ মে’র সেই মর্মান্তিক ঘটনায়। সে সময় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের অভাব ছিল এবং কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। এই ঘটনার পরই কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্ধারিত সময়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক মনে করেনি কর্তৃপক্ষ।
তবে আইনজীবী শিশির মনিরের এই দাবিকে পাত্তা দিতে নারাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, আদেশে স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের কৌশল বা বিতর্ক তুলে কোনো লাভ হবে না। প্রয়োজনে আদেশে সংশোধন আনা হবে, তবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অটল। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও একই সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, হাসপাতালটির বর্তমানে কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, তাই রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া উচিত হবে না।
আইন অনুযায়ী, এই আদেশের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই জটিলতা এবং লাইসেন্স বাতিলের বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।
2.png)