সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 কৃষকের জানালাকৃষকের জানালা

বোরো ক্ষেতে ‘পাতাপোড়া’ রোগ: দিশেহারা নীলফামারীর কৃষকরা

ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে মাঠের পর মাঠ ধান; কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় কাটছে কৃষকের দিন।

বোরো ক্ষেতে ‘পাতাপোড়া’ রোগ: দিশেহারা নীলফামারীর কৃষকরা
ছবি -সংগৃহীত

 

মাঠে এখন থোক থোক সোনালি ধানের হাসার কথা ছিল, অথচ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চিত্রটা একদম উল্টো। চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাকটেরিয়াজনিত ‘পাতাপোড়া’ বা বিএলবি রোগের প্রাদুর্ভাবে মাঠের পর মাঠ সবুজ ধান ঝলসে যাচ্ছে। চোখের সামনে ধানের শীষ শুকিয়ে বিবর্ণ হতে দেখে দুশ্চিন্তায় বুক ফেটে যাচ্ছে শত শত কৃষকের। সত্যি বলতে, হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের এই দশা দেখে অনেকে এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন।

উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নসহ উত্তর দুরাকুটি ও জয়ননকোট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। কৃষকদের দাবি, ধানের শীষ বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সবুজ পাতাগুলো তামাটে রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। চাষি শামসুল হক যেমনটা আক্ষেপ করে বলছিলেন, ফসলের এই দুঃসময়ে মাঠপর্যায়ে কোনো কৃষি কর্মকর্তার দেখা মিলছে না। নিরুপায় হয়ে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা এখন কীটনাশক ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু দোকানদারের পরামর্শে দামী দামী ওষুধ ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না; উল্টো বাড়ছে ঋণের বোঝা আর উৎপাদন খরচ।

বাস্তবতা হলো, সঠিক পরামর্শের অভাবে কৃষকরা এখন দিশেহারা। তারা অভিযোগ তুলেছেন, রোগের কারণ বা এর প্রতিকার নিয়ে কারিগরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাচ্ছেন না তারা। ফলে ফলন বিপর্যয়ের এক চরম অনিশ্চয়তা পুরো এলাকায় জেঁকে বসেছে।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠের এই চিত্রকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলমের মতে, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঝড়-বৃষ্টির কারণেই মূলত কিছু জমিতে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কিছু বলছে। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এখন এই বিপুল পরিমাণ ফসল রক্ষা করা না গেলে এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরণের সংকট নেমে আসার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

বিষয় : বাংলাদেশ বোরো ক্ষেত পাতাপোড়া রোগ

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


বোরো ক্ষেতে ‘পাতাপোড়া’ রোগ: দিশেহারা নীলফামারীর কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

 

মাঠে এখন থোক থোক সোনালি ধানের হাসার কথা ছিল, অথচ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চিত্রটা একদম উল্টো। চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাকটেরিয়াজনিত ‘পাতাপোড়া’ বা বিএলবি রোগের প্রাদুর্ভাবে মাঠের পর মাঠ সবুজ ধান ঝলসে যাচ্ছে। চোখের সামনে ধানের শীষ শুকিয়ে বিবর্ণ হতে দেখে দুশ্চিন্তায় বুক ফেটে যাচ্ছে শত শত কৃষকের। সত্যি বলতে, হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের এই দশা দেখে অনেকে এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন।

উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নসহ উত্তর দুরাকুটি ও জয়ননকোট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। কৃষকদের দাবি, ধানের শীষ বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সবুজ পাতাগুলো তামাটে রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। চাষি শামসুল হক যেমনটা আক্ষেপ করে বলছিলেন, ফসলের এই দুঃসময়ে মাঠপর্যায়ে কোনো কৃষি কর্মকর্তার দেখা মিলছে না। নিরুপায় হয়ে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা এখন কীটনাশক ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু দোকানদারের পরামর্শে দামী দামী ওষুধ ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না; উল্টো বাড়ছে ঋণের বোঝা আর উৎপাদন খরচ।

বাস্তবতা হলো, সঠিক পরামর্শের অভাবে কৃষকরা এখন দিশেহারা। তারা অভিযোগ তুলেছেন, রোগের কারণ বা এর প্রতিকার নিয়ে কারিগরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাচ্ছেন না তারা। ফলে ফলন বিপর্যয়ের এক চরম অনিশ্চয়তা পুরো এলাকায় জেঁকে বসেছে।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠের এই চিত্রকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলমের মতে, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঝড়-বৃষ্টির কারণেই মূলত কিছু জমিতে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কিছু বলছে। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এখন এই বিপুল পরিমাণ ফসল রক্ষা করা না গেলে এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরণের সংকট নেমে আসার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত