সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

এবারও কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে বেশিঃ খামারিদের কপালে ভাঁজ

চাহিদার চেয়ে ২২ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত থাকলেও গো-খাদ্যের চড়া দাম ও চোরাচালান আতঙ্কে কাটছে খামারিদের দিন।

এবারও কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে বেশিঃ খামারিদের কপালে ভাঁজ
ছবি -সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সারাদেশে কোরবানির প্রস্তুতি তুঙ্গে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ মে কোরবানি ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি এই ঈদ দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুষ্টির জোগান দিতে এক বিরাট ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সামাজিকভাবে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে গোশত বিতরণের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এটি আমিষের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের ঈদের আগে দেশি খামারিদের মনে আনন্দের চেয়ে শঙ্কার মেঘই বেশি দানা বাঁধছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। অথচ সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু অতিরিক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি এবং ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি। বাজার ব্যবস্থাপনায় এবার সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে, যার মধ্যে ঢাকাতেই থাকবে ২৭টি। গেল বছর যেখানে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল, এবার তা ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এত বিপুল প্রস্তুতি সত্ত্বেও খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার মূল কারণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশের ভয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকায় দেশে ব্যাপক হারে গরুর খামার গড়ে উঠেছে এবং দেশ এখন প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গমের ভূষি, মসুর, ধানের গুড়া কিংবা শুকনো খড়—সবকিছুর দামই গত বছরের তুলনায় বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খামারে একটি গরু পালনে মণপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে শুরু করে ৩৩-৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। পশুর যথাযথ দাম না পেলে অনেক খামারি এবার পথে বসার উপক্রম হবেন।

আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসারে এবার কোরবানির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। আগে যারা একা কোরবানি দিতেন, তারা হয়তো এবার ভাগে কোরবানি দেবেন। এমন অবস্থায় বাজারে যদি ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে দেশি খামারিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন।

তবে কৃষিমন্ত্রী ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন খামারিদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজনও নেই। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। সরকারের এই আশ্বাস এখন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে হাজার হাজার দেশি খামারির স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ।

বিষয় : ঈদুল আজহা কোরবানিযোগ্য পশু

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


এবারও কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে বেশিঃ খামারিদের কপালে ভাঁজ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সারাদেশে কোরবানির প্রস্তুতি তুঙ্গে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ মে কোরবানি ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি এই ঈদ দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুষ্টির জোগান দিতে এক বিরাট ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সামাজিকভাবে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে গোশত বিতরণের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এটি আমিষের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের ঈদের আগে দেশি খামারিদের মনে আনন্দের চেয়ে শঙ্কার মেঘই বেশি দানা বাঁধছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। অথচ সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু অতিরিক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি এবং ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি। বাজার ব্যবস্থাপনায় এবার সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে, যার মধ্যে ঢাকাতেই থাকবে ২৭টি। গেল বছর যেখানে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল, এবার তা ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এত বিপুল প্রস্তুতি সত্ত্বেও খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার মূল কারণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশের ভয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকায় দেশে ব্যাপক হারে গরুর খামার গড়ে উঠেছে এবং দেশ এখন প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গমের ভূষি, মসুর, ধানের গুড়া কিংবা শুকনো খড়—সবকিছুর দামই গত বছরের তুলনায় বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খামারে একটি গরু পালনে মণপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে শুরু করে ৩৩-৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। পশুর যথাযথ দাম না পেলে অনেক খামারি এবার পথে বসার উপক্রম হবেন।

আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসারে এবার কোরবানির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। আগে যারা একা কোরবানি দিতেন, তারা হয়তো এবার ভাগে কোরবানি দেবেন। এমন অবস্থায় বাজারে যদি ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে দেশি খামারিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন।

তবে কৃষিমন্ত্রী ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন খামারিদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজনও নেই। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। সরকারের এই আশ্বাস এখন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে হাজার হাজার দেশি খামারির স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত