সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

হাওয়াই মিঠাইয়ের রঙিন মোড়কে বিষের হাতছানি

উজ্জ্বল রঙের টানে শিশুরা ঝুঁকছে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের দিকে, যার পরিণাম হতে পারে ক্যানসার কিংবা দীর্ঘমেয়াদী লিভারের জটিলতা।

হাওয়াই মিঠাইয়ের রঙিন মোড়কে বিষের হাতছানি
ছবি -সংগৃহীত

হাওয়াই মিঠাই বানানোর মেশিন


রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঠিতে সেট করা রঙিন হাওয়াই মিঠাইয়ের সেই চিরচেনা দৃশ্যটি কতই না সুন্দর। লাল ,নীল,হলুদ নানা রঙের তুলার মত মোলায়েম সেই  শৈশবের নস্টালজিয়া, আহা! কিন্তু যতই আপনি নস্টালজিক হোন না কেন,   আবেগের আড়ালে এই রঙ মাখা কোমল বস্তুটি  জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের চারপাশের এই মুখরোচক খাবারটি শিশুদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। এর বড় প্রমাণ মিলেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের তামিলনাড়ু এবং পন্ডিচেরীতে, যেখানে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় মিষ্টান্নটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, এই মিঠাই রঙিন করতে যে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে, তা মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। এই মিঠাইকে আকর্ষণীয় গোলাপি বা লাল করতে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনো খাদ্যদ্রব্যের রং নয়। এর নাম 'রোডামাইন-বি'। এটি মূলত কাপড় রং করার কারখানায় ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী রাসায়নিক। সত্যি বলতে, যে চিনি দিয়ে এই মিঠাই তৈরি হয়, তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি ভয়ানক হলো এই রঙিন বিষ। পন্ডিচেরী ও তামিলনাড়ু সরকার এই রাসায়নিকের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পরই জনসাধারণের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

মজা করে হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে শিশু


চিকিৎসকদের মতে, 'রোডামাইন-বি' সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। দীর্ঘ সময় ধরে এসব রং শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে তা লিভার বা কিডনি অকেজো করে দিতে পারে। এমনকি শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন বা মানসিক বিকাশেও এটি বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায়, এই কৃত্রিম রঙের প্রভাবে শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ছে কিংবা তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

পাশাপাশি, রাস্তার খোলা ধুলোবালিতে তৈরি হওয়া এই মিঠাইগুলো টাইফয়েড বা আমাশয়ের মতো জীবাণুরও বড় উৎস। অতিরিক্ত চিনির কারণে শিশুদের দাঁতের এনামেল দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়। আসলে আমরা আনন্দের নামে শিশুদের হাতে যে হাওয়াই মিঠাই তুলে দিচ্ছি, তা যে এক ধরণের 'রঙিন বিষ', তামিলনাড়ুর এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের সেই কঠিন সত্যেরই মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে এই ধরণের সস্তা ও ক্ষতিকর রং মেশানো খাবার থেকে সন্তানদের দূরে রাখাই হবে এখন সময়ের দাবি। দিনশেষে আমাদের সামান্য সচেতনতাই পারে পরবর্তী প্রজন্মকে এক নিশ্চিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


হাওয়াই মিঠাইয়ের রঙিন মোড়কে বিষের হাতছানি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

হাওয়াই মিঠাই বানানোর মেশিন


রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঠিতে সেট করা রঙিন হাওয়াই মিঠাইয়ের সেই চিরচেনা দৃশ্যটি কতই না সুন্দর। লাল ,নীল,হলুদ নানা রঙের তুলার মত মোলায়েম সেই  শৈশবের নস্টালজিয়া, আহা! কিন্তু যতই আপনি নস্টালজিক হোন না কেন,   আবেগের আড়ালে এই রঙ মাখা কোমল বস্তুটি  জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের চারপাশের এই মুখরোচক খাবারটি শিশুদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। এর বড় প্রমাণ মিলেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের তামিলনাড়ু এবং পন্ডিচেরীতে, যেখানে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় মিষ্টান্নটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, এই মিঠাই রঙিন করতে যে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে, তা মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। এই মিঠাইকে আকর্ষণীয় গোলাপি বা লাল করতে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনো খাদ্যদ্রব্যের রং নয়। এর নাম 'রোডামাইন-বি'। এটি মূলত কাপড় রং করার কারখানায় ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী রাসায়নিক। সত্যি বলতে, যে চিনি দিয়ে এই মিঠাই তৈরি হয়, তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি ভয়ানক হলো এই রঙিন বিষ। পন্ডিচেরী ও তামিলনাড়ু সরকার এই রাসায়নিকের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পরই জনসাধারণের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

মজা করে হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে শিশু


চিকিৎসকদের মতে, 'রোডামাইন-বি' সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। দীর্ঘ সময় ধরে এসব রং শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে তা লিভার বা কিডনি অকেজো করে দিতে পারে। এমনকি শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন বা মানসিক বিকাশেও এটি বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায়, এই কৃত্রিম রঙের প্রভাবে শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ছে কিংবা তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

পাশাপাশি, রাস্তার খোলা ধুলোবালিতে তৈরি হওয়া এই মিঠাইগুলো টাইফয়েড বা আমাশয়ের মতো জীবাণুরও বড় উৎস। অতিরিক্ত চিনির কারণে শিশুদের দাঁতের এনামেল দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়। আসলে আমরা আনন্দের নামে শিশুদের হাতে যে হাওয়াই মিঠাই তুলে দিচ্ছি, তা যে এক ধরণের 'রঙিন বিষ', তামিলনাড়ুর এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের সেই কঠিন সত্যেরই মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে এই ধরণের সস্তা ও ক্ষতিকর রং মেশানো খাবার থেকে সন্তানদের দূরে রাখাই হবে এখন সময়ের দাবি। দিনশেষে আমাদের সামান্য সচেতনতাই পারে পরবর্তী প্রজন্মকে এক নিশ্চিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত