বানিজ্য
ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আসলে হচ্ছেটা কী? সরকার এই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে কোথায়? আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সরাসরি এমন কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারি অর্থের অপচয় আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তারা। শিল্পোদ্যোক্তাদের স্পষ্ট কথা—ব্যয় সংকোচন আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে করদাতার ওপর আর কোনো বাড়তি বোঝা চাপানো সমীচীন হবে না।
আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ মানুষ কিংবা ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের টাকার সঠিক প্রতিফলন রাষ্ট্রীয় সেবাগুলোতে কতটা দৃশ্যমান। করপোরেট করদাতাদের ওপর বছরের পর বছর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হলেও করের নেট বা আওতা বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের দৃশ্যমান কোনো সাফল্য নেই—এমন অভিযোগও উঠে আসে সভায়। তদুপরি, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থের নয়ছয় আর অদক্ষতা নিয়ে সভায় ব্যবসায়ী নেতারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, কেবল আশ্বাস নয়, বরং সরকারি খরচের প্রতিটি খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। কর প্রশাসনে আমূল সংস্কার ছাড়া দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা। সত্যি বলতে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা থেকেই আজ এমন দাবিগুলো জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
উদ্যোক্তাদের এই তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে করদাতাদের অর্থের প্রতিটি পাই-পয়সার সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের এই যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিগুলো কতটা গুরুত্বের সাথে প্রতিফলিত হয়।
বিষয় : ট্যাক্সের টাকা জবাবদিহি

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আসলে হচ্ছেটা কী? সরকার এই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে কোথায়? আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সরাসরি এমন কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারি অর্থের অপচয় আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তারা। শিল্পোদ্যোক্তাদের স্পষ্ট কথা—ব্যয় সংকোচন আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে করদাতার ওপর আর কোনো বাড়তি বোঝা চাপানো সমীচীন হবে না।
আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ মানুষ কিংবা ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের টাকার সঠিক প্রতিফলন রাষ্ট্রীয় সেবাগুলোতে কতটা দৃশ্যমান। করপোরেট করদাতাদের ওপর বছরের পর বছর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হলেও করের নেট বা আওতা বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের দৃশ্যমান কোনো সাফল্য নেই—এমন অভিযোগও উঠে আসে সভায়। তদুপরি, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থের নয়ছয় আর অদক্ষতা নিয়ে সভায় ব্যবসায়ী নেতারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, কেবল আশ্বাস নয়, বরং সরকারি খরচের প্রতিটি খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। কর প্রশাসনে আমূল সংস্কার ছাড়া দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা। সত্যি বলতে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা থেকেই আজ এমন দাবিগুলো জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
উদ্যোক্তাদের এই তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে করদাতাদের অর্থের প্রতিটি পাই-পয়সার সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের এই যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিগুলো কতটা গুরুত্বের সাথে প্রতিফলিত হয়।
