খেলা
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪।
শেরে বাংলার সবুজ ঘাসে রোদের ঝিলিক ছিল ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে নাজমুল হোসেন শান্তর চোখেমুখে যেন রাজ্যের ক্লান্তি ভর করল। ড্রেসিংরুমের সিঁড়িটা আজ বড্ড খাড়া মনে হচ্ছিল তার কাছে। হবেই না বা কেন? টেস্ট ক্রিকেটকে রীতিমতো ওয়ানডের আমেজে রাঙিয়ে দিচ্ছিলেন এতক্ষণ। কখনো দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভ, কখনো বা পেশিবহুল দাপটে বল পাঠাচ্ছিলেন সীমানার ওপারে। দোর্দণ্ড প্রতাপে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিন অঙ্কের সেই জাদুকরী সংখ্যায়। কিন্তু ওই যে, তৃপ্তির ঠিক পরেই এক মুহূর্তের বিচ্যুতি—আর তাতেই সব শেষ! সেঞ্চুরির আবাহন শেষ হতে না হতেই সাজঘরের পথ ধরতে হলো তাকে।
নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি পুর্ণ করার মুহুর্ত
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১ রান। স্কোরবোর্ডটা যে এমন হৃষ্টপুষ্ট দেখাচ্ছে, তার কৃতিত্ব নাজমুল আর মুমিনুল হকের। নাজমুল ফিরলেন ১০১ করে, আর মুমিনুল? টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিটা যখন হাতছানি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯ রান দূরে থাকতে ফিরলেন সাজঘরে। দুই বাঁহাতির আক্ষেপের ধরণ আলাদা হলেও দিনের গল্পটা কিন্তু তারাই লিখে দিয়েছেন। নাজমুলের জন্য সেঞ্চুরিটা যেন এখন ডালভাত; টেস্টে এখন পর্যন্ত ১৪ বার ফিফটি পেরিয়ে ৯ বারই তিন অংক ছুঁয়েছেন। শান্তর ফিফটি মানেই এখন নিশ্চিত সেঞ্চুরির সুসংবাদ। তবে আক্ষেপ একটাই, আগের ইনিংসের মতো আজও ঠিক ১০০ পার করেই উইকেটে থিতু হতে পারলেন না।
সকালে শাহীন আফ্রিদির প্রথম বলে মাহমুদুল হাসানের বাউন্ডারি বুঝিয়ে দিয়েছিল উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ দারুণ। যদিও শুরুর সেই আমেজ ওপেনাররা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি; মাত্র ৩১ রানেই দুই ওপেনার ফিরে গেলে হাল ধরেন নাজমুল ও মুমিনুল। তাদের রেকর্ড গড়া ১৭০ রানের জুটিই পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশেষ করে নাজমুলের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো; ১০৩ বলে সেঞ্চুরি করার পথে কাভার ড্রাইভ আর স্ট্রেট ড্রাইভের যে প্রদর্শনী তিনি দেখালেন, তা অনেকদিন মনে রাখার মতো। শাহীন আফ্রিদিকে পরপর দুই চার কিংবা আব্বাসকে ছক্কায় ওড়ানো—শান্ত আজ ছিলেন নিজের চেনা মেজাজে।
শেষবেলায় মুমিনুলের বিদায়টা ছিল কিছুটা দৃষ্টিকটু। নোমান আলীর নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ২০০ বলের যে ধৈর্য তিনি দেখালেন, তা সেঞ্চুরিতে রূপ পেলে দিনটা হয়তো ষোলকলায় পূর্ণ হতো। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম হাল ছাড়েননি। নিজের ১০১তম টেস্টে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন তিনি, সাথে ৮ রান নিয়ে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস। দিন শেষে পাকিস্তানের বোলারদের অসহায়ত্বই ফুটে উঠেছে মিরপুরে। অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল নিজে পথ দেখিয়ে গেছেন, এখন দেখার বিষয় লিটন-মুশফিকরা সেই পথ ধরে পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেন কি না।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪।
শেরে বাংলার সবুজ ঘাসে রোদের ঝিলিক ছিল ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে নাজমুল হোসেন শান্তর চোখেমুখে যেন রাজ্যের ক্লান্তি ভর করল। ড্রেসিংরুমের সিঁড়িটা আজ বড্ড খাড়া মনে হচ্ছিল তার কাছে। হবেই না বা কেন? টেস্ট ক্রিকেটকে রীতিমতো ওয়ানডের আমেজে রাঙিয়ে দিচ্ছিলেন এতক্ষণ। কখনো দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভ, কখনো বা পেশিবহুল দাপটে বল পাঠাচ্ছিলেন সীমানার ওপারে। দোর্দণ্ড প্রতাপে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিন অঙ্কের সেই জাদুকরী সংখ্যায়। কিন্তু ওই যে, তৃপ্তির ঠিক পরেই এক মুহূর্তের বিচ্যুতি—আর তাতেই সব শেষ! সেঞ্চুরির আবাহন শেষ হতে না হতেই সাজঘরের পথ ধরতে হলো তাকে।
নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরি পুর্ণ করার মুহুর্ত
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১ রান। স্কোরবোর্ডটা যে এমন হৃষ্টপুষ্ট দেখাচ্ছে, তার কৃতিত্ব নাজমুল আর মুমিনুল হকের। নাজমুল ফিরলেন ১০১ করে, আর মুমিনুল? টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিটা যখন হাতছানি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯ রান দূরে থাকতে ফিরলেন সাজঘরে। দুই বাঁহাতির আক্ষেপের ধরণ আলাদা হলেও দিনের গল্পটা কিন্তু তারাই লিখে দিয়েছেন। নাজমুলের জন্য সেঞ্চুরিটা যেন এখন ডালভাত; টেস্টে এখন পর্যন্ত ১৪ বার ফিফটি পেরিয়ে ৯ বারই তিন অংক ছুঁয়েছেন। শান্তর ফিফটি মানেই এখন নিশ্চিত সেঞ্চুরির সুসংবাদ। তবে আক্ষেপ একটাই, আগের ইনিংসের মতো আজও ঠিক ১০০ পার করেই উইকেটে থিতু হতে পারলেন না।
সকালে শাহীন আফ্রিদির প্রথম বলে মাহমুদুল হাসানের বাউন্ডারি বুঝিয়ে দিয়েছিল উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ দারুণ। যদিও শুরুর সেই আমেজ ওপেনাররা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি; মাত্র ৩১ রানেই দুই ওপেনার ফিরে গেলে হাল ধরেন নাজমুল ও মুমিনুল। তাদের রেকর্ড গড়া ১৭০ রানের জুটিই পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশেষ করে নাজমুলের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো; ১০৩ বলে সেঞ্চুরি করার পথে কাভার ড্রাইভ আর স্ট্রেট ড্রাইভের যে প্রদর্শনী তিনি দেখালেন, তা অনেকদিন মনে রাখার মতো। শাহীন আফ্রিদিকে পরপর দুই চার কিংবা আব্বাসকে ছক্কায় ওড়ানো—শান্ত আজ ছিলেন নিজের চেনা মেজাজে।
শেষবেলায় মুমিনুলের বিদায়টা ছিল কিছুটা দৃষ্টিকটু। নোমান আলীর নিচু হয়ে আসা বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ২০০ বলের যে ধৈর্য তিনি দেখালেন, তা সেঞ্চুরিতে রূপ পেলে দিনটা হয়তো ষোলকলায় পূর্ণ হতো। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম হাল ছাড়েননি। নিজের ১০১তম টেস্টে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন তিনি, সাথে ৮ রান নিয়ে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস। দিন শেষে পাকিস্তানের বোলারদের অসহায়ত্বই ফুটে উঠেছে মিরপুরে। অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল নিজে পথ দেখিয়ে গেছেন, এখন দেখার বিষয় লিটন-মুশফিকরা সেই পথ ধরে পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেন কি না।
