স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বল—সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় এখন কেবল দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার। কুকুরের কামড় বা বিড়ালের আঁচড় খেয়ে যখন দিশেহারা মানুষ টিকার আশায় হাসপাতালের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তখন উত্তর মিলছে একটাই—‘সরবরাহ নেই’। সাত বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভোরে লাইনে দাঁড়ানো এক বাবা যখন দেখেন পকেটের শেষ সম্বল দিয়ে বাইরের দোকান থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এক করুণ বাস্তবতা হয়ে সামনে আসে তার কাছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী কিছু রদবদল আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার স্থবিরতায় থমকে গেছে কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম। আগে যেখানে ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ বা ইপিআই-এর মাধ্যমে অতি সহজেই বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যেত, এখন সেখানে কাজ করছে এক ধরনের দীর্ঘসূত্রতা। দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি গুদামগুলো এখন প্রায় শূন্য। কোথাও কোথাও স্থানীয় উদ্যোগে যৎসামান্য টিকার ব্যবস্থা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় নেহাতই নগণ্য। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরছেন, যা তাদের জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান এই অবস্থাকে দেখছেন এক বড় ধরনের উদাসিনতা ও গাফিলতির ফল হিসেবে। এক সময় কুকুরের টিকাদান আর মানুষের প্রতিষেধক নিশ্চিত করে জলাতঙ্কে মৃত্যুহার যে পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছিল, তা এখন আবার বাড়তে শুরু করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে এই মরণব্যাধি নির্মূলের যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখেছিল, টিকার এই অভাব সেই লক্ষ্যযাত্রাকে কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে পারে। যদিও সরকারি পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দ্রুতই বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিনের নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে, তবে সেই অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন উদ্বেগ যেন কাটছেই না। সব মিলিয়ে, জনস্বাস্থ্যের এই নাজুক পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া না গেলে সামনে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বল—সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় এখন কেবল দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার। কুকুরের কামড় বা বিড়ালের আঁচড় খেয়ে যখন দিশেহারা মানুষ টিকার আশায় হাসপাতালের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তখন উত্তর মিলছে একটাই—‘সরবরাহ নেই’। সাত বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভোরে লাইনে দাঁড়ানো এক বাবা যখন দেখেন পকেটের শেষ সম্বল দিয়ে বাইরের দোকান থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এক করুণ বাস্তবতা হয়ে সামনে আসে তার কাছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী কিছু রদবদল আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার স্থবিরতায় থমকে গেছে কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম। আগে যেখানে ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ বা ইপিআই-এর মাধ্যমে অতি সহজেই বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যেত, এখন সেখানে কাজ করছে এক ধরনের দীর্ঘসূত্রতা। দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি গুদামগুলো এখন প্রায় শূন্য। কোথাও কোথাও স্থানীয় উদ্যোগে যৎসামান্য টিকার ব্যবস্থা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় নেহাতই নগণ্য। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরছেন, যা তাদের জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান এই অবস্থাকে দেখছেন এক বড় ধরনের উদাসিনতা ও গাফিলতির ফল হিসেবে। এক সময় কুকুরের টিকাদান আর মানুষের প্রতিষেধক নিশ্চিত করে জলাতঙ্কে মৃত্যুহার যে পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছিল, তা এখন আবার বাড়তে শুরু করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে এই মরণব্যাধি নির্মূলের যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখেছিল, টিকার এই অভাব সেই লক্ষ্যযাত্রাকে কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে পারে। যদিও সরকারি পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দ্রুতই বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিনের নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে, তবে সেই অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন উদ্বেগ যেন কাটছেই না। সব মিলিয়ে, জনস্বাস্থ্যের এই নাজুক পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া না গেলে সামনে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
