বানিজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো সমঝোতা চাইলেই হুট করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শনে এসে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের লেনদেন দ্রুত রদবদল করা গেলেও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো চুক্তিতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরির চেষ্টা করা হয়। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যদি এমন কিছু দৃশ্যমান হয় যা দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী, তবে ওই নির্দিষ্ট ধারাটি সংশোধনের সুযোগ স্বয়ং চুক্তির মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম নামমাত্র বেড়েছে। পণ্যমূল্যের ওপর এর যে সাময়িক প্রভাব, তাকে তিনি ‘ওয়ানটাইম স্পাইক’ হিসেবে অভিহিত করেন। ডিজেলের দাম সামান্য বাড়লেও পণ্যমূল্যে তার বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়। কেউ যদি সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। অনুমান বা ভীতি থেকে আগাম দাম বাড়ানোকে তিনি অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন।
বন্দর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দক্ষতার অভাবে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কার্যক্রম দ্রুততর হলে ইউনিট প্রতি খরচ অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া লোকসানি কলকারখানা ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়; বরং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা।” অদক্ষতার কারণে জনগণের করের টাকার অপচয় রোধেই এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিয়ে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
এর আগে মন্ত্রী বাইশটিলা এলাকায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে জেলা পরিষদের পরিকল্পিত ন্যাচারাল পার্কের মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখানে কেবল কার এবং রোপব্রিজসহ আধুনিক বিনোদন সামগ্রী যুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি। বিকেলে তিনি সিলেটের আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এআইবিএ) পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে স্থানীয় জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বানিজ্য চুক্তি

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো সমঝোতা চাইলেই হুট করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শনে এসে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের লেনদেন দ্রুত রদবদল করা গেলেও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো চুক্তিতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরির চেষ্টা করা হয়। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যদি এমন কিছু দৃশ্যমান হয় যা দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী, তবে ওই নির্দিষ্ট ধারাটি সংশোধনের সুযোগ স্বয়ং চুক্তির মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতির শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম নামমাত্র বেড়েছে। পণ্যমূল্যের ওপর এর যে সাময়িক প্রভাব, তাকে তিনি ‘ওয়ানটাইম স্পাইক’ হিসেবে অভিহিত করেন। ডিজেলের দাম সামান্য বাড়লেও পণ্যমূল্যে তার বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়। কেউ যদি সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। অনুমান বা ভীতি থেকে আগাম দাম বাড়ানোকে তিনি অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন।
বন্দর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দক্ষতার অভাবে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কার্যক্রম দ্রুততর হলে ইউনিট প্রতি খরচ অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া লোকসানি কলকারখানা ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়; বরং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা।” অদক্ষতার কারণে জনগণের করের টাকার অপচয় রোধেই এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিয়ে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
এর আগে মন্ত্রী বাইশটিলা এলাকায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে জেলা পরিষদের পরিকল্পিত ন্যাচারাল পার্কের মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখানে কেবল কার এবং রোপব্রিজসহ আধুনিক বিনোদন সামগ্রী যুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি। বিকেলে তিনি সিলেটের আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এআইবিএ) পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে স্থানীয় জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
