বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। প্রশ্নটি করেছিলেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়াল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য কমানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির অবদান বড়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা—এই খাতকে চাপে ফেলছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন—স্বল্পমূল্যে বীজ ও সার, ভর্তুকি, কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, বীমা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং রোগবালাই দমনের পরামর্শ। পর্যায়ক্রমে সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার উন্নত বীজ ও সুষম সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষিযান্ত্রিকীকরণেও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ যন্ত্র সহজে পাওয়া যায়।
পতিত জমি কাজে লাগাতে চালু হয়েছে ‘ক্রপ জোনিং’। এতে অঞ্চলভেদে উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ে, জমির অপচয় কমে। সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমিও চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার এখন ধানের বাইরে অন্যান্য ফসলেও জোর দিচ্ছে। ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষি আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচি চালু আছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বড় অংশ বীজ ও সার বিতরণে ব্যয় হয়েছে। এতে লাখো কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট আকারের সংরক্ষণ সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে। রপ্তানি বাড়াতে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গবেষণায়ও জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে কাজ চলছে। জলবায়ু সহনশীল ফসল তৈরির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া হচ্ছে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ উদ্যোগ। এতে কম পানি, কম সার ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক সেচ পদ্ধতি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। প্রশ্নটি করেছিলেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়াল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য কমানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির অবদান বড়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা—এই খাতকে চাপে ফেলছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন—স্বল্পমূল্যে বীজ ও সার, ভর্তুকি, কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, বীমা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং রোগবালাই দমনের পরামর্শ। পর্যায়ক্রমে সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার উন্নত বীজ ও সুষম সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষিযান্ত্রিকীকরণেও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ যন্ত্র সহজে পাওয়া যায়।
পতিত জমি কাজে লাগাতে চালু হয়েছে ‘ক্রপ জোনিং’। এতে অঞ্চলভেদে উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ে, জমির অপচয় কমে। সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমিও চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার এখন ধানের বাইরে অন্যান্য ফসলেও জোর দিচ্ছে। ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষি আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচি চালু আছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বড় অংশ বীজ ও সার বিতরণে ব্যয় হয়েছে। এতে লাখো কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট আকারের সংরক্ষণ সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে। রপ্তানি বাড়াতে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গবেষণায়ও জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে কাজ চলছে। জলবায়ু সহনশীল ফসল তৈরির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া হচ্ছে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ উদ্যোগ। এতে কম পানি, কম সার ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক সেচ পদ্ধতি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সরকার।
