জাতীয়
গত কয়েকদিনে যশোর, লালমনিরহাট, নওগাঁসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের প্রাক্কালে এই উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিজিবির তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তে অন্তত ১০টি পৃথক পুশইন প্রচেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের কড়া নজরদারি উপেক্ষা করে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় বিজিবির টহল দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যশোরের সাদিপুর সীমান্ত চৌকির বিপরীতে বিএসএফের একটি বড় দল কয়েক ডজন মানুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে প্রিজন ভ্যান বা বিশেষ পরিবহন ব্যবহার করে অবৈধভাবে লোকজন নিয়ে আসা হচ্ছে, যা বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে গেছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, নওগাঁর সাপাহারে ১৭ জন অনুপ্রবেশকারীকে পুশইনের চেষ্টার পর দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বিএসএফ তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়। ফলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও চওড়া হচ্ছে। আবার পঞ্চগড় ও সিলেটের সীমান্তগুলোতে সন্দেহভাজনদের আটক করে যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বিশেষ কিছু পয়েন্টে বিজিবিকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে, যাতে অনুপ্রবেশের কোনো ছিদ্র দিয়ে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, স্থলসীমান্তের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। সমুদ্রপথ বা নদীবন্দর ব্যবহার করে যাতে কেউ পুশইন করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি। পুশইন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-তে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিএসএফের এমন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিনের সীমান্ত প্রটোকলের পরিপন্থী। বিশেষ করে যখন খুব শীঘ্রই দুই বাহিনীর প্রধানরা নয়াদিল্লিতে বৈঠক করতে যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তের উত্তাপ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তে মোতায়েন করা বিজিবির প্রতিটি ব্যাটালিয়ান এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আইন অমান্য করে কাউকে কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে, যাতে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বড় ধরনের কোনো সংকটে রূপ নিতে না পারে।
2.png)
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
গত কয়েকদিনে যশোর, লালমনিরহাট, নওগাঁসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি ও বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের প্রাক্কালে এই উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিজিবির তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তে অন্তত ১০টি পৃথক পুশইন প্রচেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের কড়া নজরদারি উপেক্ষা করে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় বিজিবির টহল দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যশোরের সাদিপুর সীমান্ত চৌকির বিপরীতে বিএসএফের একটি বড় দল কয়েক ডজন মানুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে প্রিজন ভ্যান বা বিশেষ পরিবহন ব্যবহার করে অবৈধভাবে লোকজন নিয়ে আসা হচ্ছে, যা বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে গেছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, নওগাঁর সাপাহারে ১৭ জন অনুপ্রবেশকারীকে পুশইনের চেষ্টার পর দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বিএসএফ তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়। ফলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও চওড়া হচ্ছে। আবার পঞ্চগড় ও সিলেটের সীমান্তগুলোতে সন্দেহভাজনদের আটক করে যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বিশেষ কিছু পয়েন্টে বিজিবিকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে, যাতে অনুপ্রবেশের কোনো ছিদ্র দিয়ে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, স্থলসীমান্তের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। সমুদ্রপথ বা নদীবন্দর ব্যবহার করে যাতে কেউ পুশইন করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি। পুশইন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-তে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিএসএফের এমন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিনের সীমান্ত প্রটোকলের পরিপন্থী। বিশেষ করে যখন খুব শীঘ্রই দুই বাহিনীর প্রধানরা নয়াদিল্লিতে বৈঠক করতে যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তের উত্তাপ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তে মোতায়েন করা বিজিবির প্রতিটি ব্যাটালিয়ান এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আইন অমান্য করে কাউকে কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে, যাতে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বড় ধরনের কোনো সংকটে রূপ নিতে না পারে।
2.png)