জাতীয়
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন বিজিবিকে ‘নতজানু’ হিসেবে দেখার যে অভিযোগ ছিল, তা কাটিয়ে এখন বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশইন’ প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। লালমনিরহাট থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সীমান্তে এক নতুন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাপ্পারবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল তীব্র বাধা দেয়। বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিকে নিয়ে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে। সেখানে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় গত ৩০ ঘণ্টা ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বিজিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের শুকনো খাবার সরবরাহ করা হলেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি।
উত্তরের এই পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তেও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের যৌথ প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বিএসএফ। নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ১৯ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একইভাবে যশোরের বেনাপোল সীমান্তেও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ৮-১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। স্থানীয়রা রাতে টর্চ হাতে সীমান্ত এলাকায় টহলে অংশ নিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করছেন।
বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো নাগরিককে পুশইন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমান্ত রক্ষায় বাহিনীটি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পুশইনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে এখনো কোনো টেকসই সমাধান আসেনি। সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিজিবি এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন তাদের এই অবস্থানে নতুন শক্তি যুগিয়েছে।
2.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন বিজিবিকে ‘নতজানু’ হিসেবে দেখার যে অভিযোগ ছিল, তা কাটিয়ে এখন বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশইন’ প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। লালমনিরহাট থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সীমান্তে এক নতুন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাপ্পারবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল তীব্র বাধা দেয়। বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিকে নিয়ে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে। সেখানে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় গত ৩০ ঘণ্টা ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বিজিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের শুকনো খাবার সরবরাহ করা হলেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি।
উত্তরের এই পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তেও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের যৌথ প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বিএসএফ। নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ১৯ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একইভাবে যশোরের বেনাপোল সীমান্তেও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ৮-১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। স্থানীয়রা রাতে টর্চ হাতে সীমান্ত এলাকায় টহলে অংশ নিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করছেন।
বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো নাগরিককে পুশইন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমান্ত রক্ষায় বাহিনীটি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পুশইনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে এখনো কোনো টেকসই সমাধান আসেনি। সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিজিবি এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন তাদের এই অবস্থানে নতুন শক্তি যুগিয়েছে।
2.png)