রাজনীতি
শুক্রবার রাজধানীর রূপায়ণ টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতেই এই বিশেষ বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৩.০৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলটির প্রস্তাবনায় জিডিপি প্রক্ষেপণ ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার। এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের মধ্যে তা ৬ শতাংশে স্থিতিশীল করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, সুদ ব্যয় ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রাখার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
রাজস্ব কাঠামো সংস্কারে এনসিপি করজাল সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘জাতীয় ডিজিটাল সম্পদ নিবন্ধন’ (NDAR) এবং টিআইএন-এনআইডি-এমএফএস সংযোগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব। এছাড়া সাধারণ করমুক্ত সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, করপোরেট কর ২৫ শতাংশে হ্রাস এবং প্রগতিশীল উত্তরাধিকার কর চালুর মতো যুগান্তকারী প্রস্তাবও রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর ভ্যাটমুক্ত সুবিধার আইনি গ্যারান্টির দাবিও জানিয়েছে দলটি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এনসিপি তাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনাও তাদের এজেন্ডায় রয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা (NHI) চালু এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য জটিল চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকির লক্ষ্যে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে ‘সোলার এনার্জি সভাবেন্টি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের মাধ্যমে সৌর পণ্যে আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং সজিব ওয়াহিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে নয়, বরং সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিষয় : এন সি পি ছায়া বাজেট
2.png)
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার রাজধানীর রূপায়ণ টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতেই এই বিশেষ বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৩.০৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলটির প্রস্তাবনায় জিডিপি প্রক্ষেপণ ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার। এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের মধ্যে তা ৬ শতাংশে স্থিতিশীল করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, সুদ ব্যয় ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রাখার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
রাজস্ব কাঠামো সংস্কারে এনসিপি করজাল সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘জাতীয় ডিজিটাল সম্পদ নিবন্ধন’ (NDAR) এবং টিআইএন-এনআইডি-এমএফএস সংযোগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব। এছাড়া সাধারণ করমুক্ত সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, করপোরেট কর ২৫ শতাংশে হ্রাস এবং প্রগতিশীল উত্তরাধিকার কর চালুর মতো যুগান্তকারী প্রস্তাবও রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর ভ্যাটমুক্ত সুবিধার আইনি গ্যারান্টির দাবিও জানিয়েছে দলটি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এনসিপি তাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনাও তাদের এজেন্ডায় রয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা (NHI) চালু এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য জটিল চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকির লক্ষ্যে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে ‘সোলার এনার্জি সভাবেন্টি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের মাধ্যমে সৌর পণ্যে আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং সজিব ওয়াহিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে নয়, বরং সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
2.png)