সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

জিয়া হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত প্রশ্নে ফের আলোচনায় ‘মিসিং লিঙ্ক’

চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অনেক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও সামনে এসেছে নেপথ্যের কুশীলব ও অজানা তথ্য অনুসন্ধানের দাবি।

জিয়া হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত প্রশ্নে ফের আলোচনায় ‘মিসিং লিঙ্ক’
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যা। ১৯৮১ সালের সেই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনা, সম্ভাব্য মদদদাতা এবং অজানা যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক কখনো থামেনি। সময়ের ব্যবধানে নতুন নতুন তথ্য, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন অনুসন্ধান সামনে আসলেও বহু প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি কেবল কিছু বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার উদ্যোগ ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো পরিকল্পনা কাজ করেছিল। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে আদালতে প্রতিষ্ঠিত বা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার পর তৎকালীন সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আসে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেলোয়ার এবং রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব কর্নেল মাহফুজকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কর্নেল মাহফুজকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা থাকলেও সেসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা কখনো সামনে আসেনি।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনের আওতায় ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিচার শেষ হলেও পুরো ঘটনার রাজনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অনুসন্ধান থেমে যায়নি। ইতিহাস গবেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিচারের রায় অপরাধীদের দায় নির্ধারণ করলেও ঘটনাটির সব স্তরের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাবক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।

সম্প্রতি এই মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকের মতে, তার কাছ থেকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। এজন্য কেউ কেউ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশি-বিদেশি লেখক ও গবেষকদের একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় ঘটনার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট অনেক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষীও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন কিংবা নীরব থেকেছেন। ফলে ইতিহাসের এই অধ্যায়ে এখনো বেশ কিছু 'মিসিং লিঙ্ক' রয়ে গেছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

চার দশকেরও বেশি সময় পরও জিয়া হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচারিক মামলার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অমীমাংসিত অধ্যায়। ইতিহাসের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি নির্ভুল বর্ণনা তুলে ধরতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রমাণভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

বিষয় : জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ড মিসিং লিংক

কাল মহাকাল

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


জিয়া হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত প্রশ্নে ফের আলোচনায় ‘মিসিং লিঙ্ক’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যা। ১৯৮১ সালের সেই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনা, সম্ভাব্য মদদদাতা এবং অজানা যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক কখনো থামেনি। সময়ের ব্যবধানে নতুন নতুন তথ্য, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন অনুসন্ধান সামনে আসলেও বহু প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি কেবল কিছু বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার উদ্যোগ ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো পরিকল্পনা কাজ করেছিল। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে আদালতে প্রতিষ্ঠিত বা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার পর তৎকালীন সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আসে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেলোয়ার এবং রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব কর্নেল মাহফুজকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কর্নেল মাহফুজকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা থাকলেও সেসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা কখনো সামনে আসেনি।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনের আওতায় ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিচার শেষ হলেও পুরো ঘটনার রাজনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অনুসন্ধান থেমে যায়নি। ইতিহাস গবেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিচারের রায় অপরাধীদের দায় নির্ধারণ করলেও ঘটনাটির সব স্তরের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাবক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।

সম্প্রতি এই মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকের মতে, তার কাছ থেকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। এজন্য কেউ কেউ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশি-বিদেশি লেখক ও গবেষকদের একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় ঘটনার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট অনেক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষীও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন কিংবা নীরব থেকেছেন। ফলে ইতিহাসের এই অধ্যায়ে এখনো বেশ কিছু 'মিসিং লিঙ্ক' রয়ে গেছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

চার দশকেরও বেশি সময় পরও জিয়া হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচারিক মামলার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম অমীমাংসিত অধ্যায়। ইতিহাসের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি নির্ভুল বর্ণনা তুলে ধরতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রমাণভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত