সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

জুলাইয়ের চেতনা পুঁজি করে রাজনীতি নয়: হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কেবল জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ নেই। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নতুন আইন আনার ঘোষণাও দেন তিনি।

জুলাইয়ের চেতনা পুঁজি করে রাজনীতি নয়: হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি -সংগৃহীত

‘জুলাইয়ের চেতনা’ বিক্রি করে দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রূপরেখার কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে একাট্টা থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কখনোই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়; বরং এটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসার পথকেই প্রশস্ত করে। তিনি বলেন, “আমরা আর চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আমাদের আরও মজবুত করতে হবে।”

বিচার বিভাগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের জবাবদিহিতার বিষয়টি তখনই সামনে আনা উচিত, যখন বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংসদ ও প্রশাসনের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “সংসদ আইন করবে, প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করবে—কিন্তু প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে বিচার বিভাগের হাত ধরেই। তাই বিচার বিভাগকে নিয়ে এখনই কঠোর সমালোচনা বা অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা সমীচীন নয়।”

জুলাইয়ের ঘটনাবলি ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী আরও বলেন, সংসদীয় রাজনীতির সমঝোতার দলিল হিসেবে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনগণের সুস্পষ্ট রায় থাকা উচিত ছিল। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিভিন্ন কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন কিছু কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যেখানে কাজের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে গুমের ধরন, দণ্ড এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই আইন প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের আইনকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। তবে মানবাধিকার আইনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয়, এমন কোনো বিষয় দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

বক্তব্যের শুরুতে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মব কোনো দিন জাস্টিস বা ন্যায়বিচার হতে পারে না। এটি একটি অপসংস্কৃতি। আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছে।”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

বিষয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাইয়ের চেতনা

কাল মহাকাল

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


জুলাইয়ের চেতনা পুঁজি করে রাজনীতি নয়: হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

‘জুলাইয়ের চেতনা’ বিক্রি করে দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রূপরেখার কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে একাট্টা থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কখনোই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়; বরং এটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসার পথকেই প্রশস্ত করে। তিনি বলেন, “আমরা আর চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আমাদের আরও মজবুত করতে হবে।”

বিচার বিভাগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের জবাবদিহিতার বিষয়টি তখনই সামনে আনা উচিত, যখন বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংসদ ও প্রশাসনের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “সংসদ আইন করবে, প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করবে—কিন্তু প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে বিচার বিভাগের হাত ধরেই। তাই বিচার বিভাগকে নিয়ে এখনই কঠোর সমালোচনা বা অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা সমীচীন নয়।”

জুলাইয়ের ঘটনাবলি ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী আরও বলেন, সংসদীয় রাজনীতির সমঝোতার দলিল হিসেবে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনগণের সুস্পষ্ট রায় থাকা উচিত ছিল। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিভিন্ন কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন কিছু কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যেখানে কাজের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে গুমের ধরন, দণ্ড এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই আইন প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের আইনকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। তবে মানবাধিকার আইনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয়, এমন কোনো বিষয় দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

বক্তব্যের শুরুতে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মব কোনো দিন জাস্টিস বা ন্যায়বিচার হতে পারে না। এটি একটি অপসংস্কৃতি। আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছে।”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত