সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ঢাকাঢাকা

সাইফুজ্জামানের গুলশানের ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মিলল বিলাসবহুল সম্পদের খোঁজ

আদালতের নির্দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা প্রস্তুত শুরু করেছে দুদক। ফ্ল্যাট থেকে বিলাসবহুল ঘড়ির প্যাকেট, গাড়ির চাবি, দামি আসবাব ও বিপুল পরিমাণ পোশাক উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

সাইফুজ্জামানের গুলশানের ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মিলল বিলাসবহুল সম্পদের খোঁজ
ছবি -সংগৃহীত

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার পরিচালিত এ অভিযানে ফ্ল্যাট দুটিতে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী, দামি আসবাবপত্র, পোশাক এবং উচ্চমূল্যের ঘড়ির প্যাকেট ও ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুদকের তল্লাশি দলের তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটি থেকে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবিও রয়েছে। এছাড়া রোলেক্সসহ মোট আটটি বিলাসবহুল ঘড়ির খালি প্যাকেট এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে চারটি ঝাড়বাতি, খাট, সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাব জব্দ করা হয়েছে।

তল্লাশিতে আরও পাওয়া গেছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, শতাধিক কামিজ এবং তিন সেট মুক্তার গয়না। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ এখনও চলছে বলে জানিয়েছে দুদক।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাট নিয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট।

দুদকের আবেদনের পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের নির্দেশ দেন। একই আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে দুদকের আরেকটি আবেদনের পর আদালত গত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা প্রস্তুতের অনুমতি দেন। সেই আদেশের ভিত্তিতেই রোববার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক ও তল্লাশি দলের প্রধান মো. মশিউর রহমান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ও নথিপত্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ চলার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আবার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। সব কার্যক্রম শেষ হলে জব্দ করা মালামাল আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উদ্ধার হওয়া ওয়ারেন্টি কার্ডের একটি থেকে জানা যায়, একটি বিলাসবহুল Rolex Cellini Date (মডেল–৫০৫১৯) ঘড়ি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের তৈরি। নথি অনুযায়ী, ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর Harrods থেকে কেনা হয়েছিল। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর ৫০৫১৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৭৩৪৫২৪৫৯ উল্লেখ রয়েছে।

বিলাসবহুল ঘড়ির আন্তর্জাতিক বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত অবস্থায় এ মডেলের একটি ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পরিবারের মালিকানায় ইউসিবি ব্যাংক ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও তিনি আবাসন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যুক্তরাজ্যে তাঁর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যে তাঁর নামে তিন শতাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি পাউন্ড।

বিষয় : সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ফ্ল্যাটে অভিযান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) Rolex Cellini Date

কাল মহাকাল

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


সাইফুজ্জামানের গুলশানের ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মিলল বিলাসবহুল সম্পদের খোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার পরিচালিত এ অভিযানে ফ্ল্যাট দুটিতে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী, দামি আসবাবপত্র, পোশাক এবং উচ্চমূল্যের ঘড়ির প্যাকেট ও ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুদকের তল্লাশি দলের তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটি থেকে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবিও রয়েছে। এছাড়া রোলেক্সসহ মোট আটটি বিলাসবহুল ঘড়ির খালি প্যাকেট এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে চারটি ঝাড়বাতি, খাট, সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাব জব্দ করা হয়েছে।

তল্লাশিতে আরও পাওয়া গেছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, শতাধিক কামিজ এবং তিন সেট মুক্তার গয়না। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ এখনও চলছে বলে জানিয়েছে দুদক।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাট নিয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট।

দুদকের আবেদনের পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের নির্দেশ দেন। একই আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে দুদকের আরেকটি আবেদনের পর আদালত গত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা প্রস্তুতের অনুমতি দেন। সেই আদেশের ভিত্তিতেই রোববার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক ও তল্লাশি দলের প্রধান মো. মশিউর রহমান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ও নথিপত্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ চলার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আবার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। সব কার্যক্রম শেষ হলে জব্দ করা মালামাল আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উদ্ধার হওয়া ওয়ারেন্টি কার্ডের একটি থেকে জানা যায়, একটি বিলাসবহুল Rolex Cellini Date (মডেল–৫০৫১৯) ঘড়ি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের তৈরি। নথি অনুযায়ী, ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর Harrods থেকে কেনা হয়েছিল। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর ৫০৫১৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৭৩৪৫২৪৫৯ উল্লেখ রয়েছে।

বিলাসবহুল ঘড়ির আন্তর্জাতিক বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত অবস্থায় এ মডেলের একটি ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পরিবারের মালিকানায় ইউসিবি ব্যাংক ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও তিনি আবাসন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যুক্তরাজ্যে তাঁর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যে তাঁর নামে তিন শতাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি পাউন্ড।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত