খেলা
গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় আজ এক সমান্তরাল ও বিপরীতধর্মী চিত্র ফুটে উঠল। একদিকে ভারতের মেয়েরা সাত বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে উল্লাসে আত্মহারা, অন্যদিকে বাংলাদেশের ফুটবলের চার বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে মাঠ ছাড়ছে বিধ্বস্ত এক দল। সাফের ফাইনালে ৩-১ গোলের হার মেনে নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের টানা তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। গোয়ার সমুদ্রতীরে থমকে গেল ঢাকার ফ্লাইটে ট্রফি তোলার প্রত্যাশা।
ফাইনালের শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জড়তা কাটিয়ে প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে লড়াইয়ে ছিল দল। ভারতের ‘নাম্বার টেন’ পিয়ারি শাশার শট যখন গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ালো, তখন মনে হয়েছিল রক্ষণভাগের অসংলগ্নতায় হয়তো ম্যাচটি ফসকে যাবে। কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমার সেই পরিচিত বাঁ পায়ের জাদুতে দ্রুতই সমতা ফেরে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলার চিত্রটা আমূল বদলে যায়। রক্ষণভাগের অসংলগ্নতা আর গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলগুলো ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে সানফিদার হেডে যখন ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল, তখন যেন মাঠের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। কোচ পিটার বাটলার একাদশে পরিবর্তন এনে আক্রমণে ধার বাড়াতে চাইলেও, ভারতের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের সামনে তা ছিল অনেকটা ম্লান। শেষ দিকে রক্ষণের চূড়ান্ত ভুলে লিয়েন্ডা কমের গোলটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। গোলরক্ষক মিলি এদিন যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, তিন গোল হজম করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেন।
১৯ হাজার ধারণক্ষমতার এই বিশাল স্টেডিয়ামে ফাইনালের দিন ছিল দর্শকখরা। গুটিকতক স্থানীয় সমর্থকের উপস্থিতিতে ভারত তাদের হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন পুনরুদ্ধারের গল্প লিখল। সাফের ১৬ বছরের ইতিহাসে ৬ষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতে ভারত যখন উৎসবের আমেজে, তখন বাংলাদেশের ডাগআউটে কেবলই দীর্ঘশ্বাস। গত চার বছর যে রাজত্ব গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, আজ গোয়ার ফাইনালে তা কেবলই স্মৃতি। মাঠের পারফরম্যান্সে ভারতের মেয়েরা যেমন ছিল কৌশলী, বাংলাদেশ ঠিক তেমনই ভুগল রক্ষণ ও গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতায়। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ব্যর্থ হয়ে আজ একরাশ হতাশা সঙ্গী করেই দেশে ফিরছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
2.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় আজ এক সমান্তরাল ও বিপরীতধর্মী চিত্র ফুটে উঠল। একদিকে ভারতের মেয়েরা সাত বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে উল্লাসে আত্মহারা, অন্যদিকে বাংলাদেশের ফুটবলের চার বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে মাঠ ছাড়ছে বিধ্বস্ত এক দল। সাফের ফাইনালে ৩-১ গোলের হার মেনে নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের টানা তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। গোয়ার সমুদ্রতীরে থমকে গেল ঢাকার ফ্লাইটে ট্রফি তোলার প্রত্যাশা।
ফাইনালের শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জড়তা কাটিয়ে প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে লড়াইয়ে ছিল দল। ভারতের ‘নাম্বার টেন’ পিয়ারি শাশার শট যখন গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ালো, তখন মনে হয়েছিল রক্ষণভাগের অসংলগ্নতায় হয়তো ম্যাচটি ফসকে যাবে। কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমার সেই পরিচিত বাঁ পায়ের জাদুতে দ্রুতই সমতা ফেরে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলার চিত্রটা আমূল বদলে যায়। রক্ষণভাগের অসংলগ্নতা আর গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত ভুলগুলো ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে সানফিদার হেডে যখন ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল, তখন যেন মাঠের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। কোচ পিটার বাটলার একাদশে পরিবর্তন এনে আক্রমণে ধার বাড়াতে চাইলেও, ভারতের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের সামনে তা ছিল অনেকটা ম্লান। শেষ দিকে রক্ষণের চূড়ান্ত ভুলে লিয়েন্ডা কমের গোলটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। গোলরক্ষক মিলি এদিন যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, তিন গোল হজম করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেন।
১৯ হাজার ধারণক্ষমতার এই বিশাল স্টেডিয়ামে ফাইনালের দিন ছিল দর্শকখরা। গুটিকতক স্থানীয় সমর্থকের উপস্থিতিতে ভারত তাদের হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন পুনরুদ্ধারের গল্প লিখল। সাফের ১৬ বছরের ইতিহাসে ৬ষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতে ভারত যখন উৎসবের আমেজে, তখন বাংলাদেশের ডাগআউটে কেবলই দীর্ঘশ্বাস। গত চার বছর যে রাজত্ব গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, আজ গোয়ার ফাইনালে তা কেবলই স্মৃতি। মাঠের পারফরম্যান্সে ভারতের মেয়েরা যেমন ছিল কৌশলী, বাংলাদেশ ঠিক তেমনই ভুগল রক্ষণ ও গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতায়। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ব্যর্থ হয়ে আজ একরাশ হতাশা সঙ্গী করেই দেশে ফিরছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
2.png)