আন্তর্জাতিক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ গলাতে আবারও বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। আজ শুক্রবার রাতেই উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের আলোচনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে। যদি তাই হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
আজ দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় টেলিফোনে আলাপ করেন আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মূলত আঞ্চলিক পরিস্থিতি, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রাধান্য পেয়েছে। এসময় ইসহাক দার মধ্যস্থতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘গঠনমূলক ও নিরপেক্ষ’ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খবর পাওয়া গেছে, আরাগচি আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন। তবে সেনাসদরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার টেবিল গরম থাকলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল প্রথম দফার বৈঠক। এরপর থেকেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ।
তবে এবারের যাত্রাটি খুব একটা সহজ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে শুরু থেকেই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে কিছুটা অনীহা দেখিয়ে আসছিল ইরান। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপে এবং পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে শহরের দুটি পাঁচতারা হোটেল পুরোপুরি বুকিং দেওয়া হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যানবাহন এবং প্রযুক্তিবিদ নিয়ে ইসলামাবাদে এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের আকাশে এখন বড় কোনো খবরের গুঞ্জন উড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, আরাগচির এই সফর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে শান্তির নতুন কোনো পথ দেখাতে পারে কি না।
বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য ইরান

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বরফ গলাতে আবারও বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। আজ শুক্রবার রাতেই উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের আলোচনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে। যদি তাই হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
আজ দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় টেলিফোনে আলাপ করেন আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মূলত আঞ্চলিক পরিস্থিতি, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রাধান্য পেয়েছে। এসময় ইসহাক দার মধ্যস্থতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘গঠনমূলক ও নিরপেক্ষ’ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খবর পাওয়া গেছে, আরাগচি আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন। তবে সেনাসদরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার টেবিল গরম থাকলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল প্রথম দফার বৈঠক। এরপর থেকেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ।
তবে এবারের যাত্রাটি খুব একটা সহজ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে শুরু থেকেই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে কিছুটা অনীহা দেখিয়ে আসছিল ইরান। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপে এবং পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে শহরের দুটি পাঁচতারা হোটেল পুরোপুরি বুকিং দেওয়া হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যানবাহন এবং প্রযুক্তিবিদ নিয়ে ইসলামাবাদে এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের আকাশে এখন বড় কোনো খবরের গুঞ্জন উড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, আরাগচির এই সফর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে শান্তির নতুন কোনো পথ দেখাতে পারে কি না।
