আন্তর্জাতিক
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সম্পর্ককে বলা হয় ইতিহাসের অন্যতম গভীর বন্ধুত্ব। আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়, সামরিক সুরক্ষা দেয়, আর জাতিসংঘের সব সভায় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই গভীর বন্ধুত্বের আড়ালে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগবে—এটি কি সত্যিকারের বন্ধুতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসাব?
বন্ধুর পরিচয় পাওয়া যায় বিপদে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা বারবার আমেরিকার ওপরই আঘাত করেছে। ১৯৬৭ সালের কথা ধরা যাক। ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস লিবার্টি’-তে হামলা চালিয়েছিল। এতে বহু মার্কিন নাবিক মারা যান। কেন তারা নিজেদের বন্ধুর ওপর হামলা করলো? উত্তরটা ছিল তাদের পারমাণবিক গোপন তথ্য লুকিয়ে রাখা। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ভেতরে ঢুকে তাদের গোপন নথি চুরি, প্রযুক্তি হাতিয়ে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করা কিংবা তাদের কর্মকর্তাদের ফোনে আড়ি পাতার মতো ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। জনাথন পোলার্ড নামে একজন ব্যক্তির কথাই ধরা যাক, যিনি আমেরিকার সব গোপন তথ্য ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়ে ধরা পড়েছিলেন।
সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটি হলো আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব। আমেরিকার নির্বাচনগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হয় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে। যারা ইসরায়েলের সমালোচনা করেন, তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়াটা এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সহজ কথায়, আমেরিকান রাজনীতিতে নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ অনেক সময় বড় হয়ে দেখা দেয়। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে সত্য চাপা পড়ে যায়।
এখন প্রশ্ন ওঠে, ইসরায়েল কি সত্যিই আমেরিকার শত্রু? নাকি আমেরিকার নীতিনির্ধারকরাই তাদের দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ইসরায়েলের হাতের পুতুল হয়ে গেছেন? যারা নিজের দেশের গোপন তথ্য, প্রযুক্তি এবং রাজনীতি অন্যের হাতে তুলে দেন, বিশ্বাসঘাতক আসলে কারা? ইসরায়েল, নাকি সেই সব প্রভাবশালী আমেরিকান, যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছেন? এই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
2.png)
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সম্পর্ককে বলা হয় ইতিহাসের অন্যতম গভীর বন্ধুত্ব। আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়, সামরিক সুরক্ষা দেয়, আর জাতিসংঘের সব সভায় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই গভীর বন্ধুত্বের আড়ালে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগবে—এটি কি সত্যিকারের বন্ধুতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসাব?
বন্ধুর পরিচয় পাওয়া যায় বিপদে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা বারবার আমেরিকার ওপরই আঘাত করেছে। ১৯৬৭ সালের কথা ধরা যাক। ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস লিবার্টি’-তে হামলা চালিয়েছিল। এতে বহু মার্কিন নাবিক মারা যান। কেন তারা নিজেদের বন্ধুর ওপর হামলা করলো? উত্তরটা ছিল তাদের পারমাণবিক গোপন তথ্য লুকিয়ে রাখা। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ভেতরে ঢুকে তাদের গোপন নথি চুরি, প্রযুক্তি হাতিয়ে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করা কিংবা তাদের কর্মকর্তাদের ফোনে আড়ি পাতার মতো ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। জনাথন পোলার্ড নামে একজন ব্যক্তির কথাই ধরা যাক, যিনি আমেরিকার সব গোপন তথ্য ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়ে ধরা পড়েছিলেন।
সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটি হলো আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব। আমেরিকার নির্বাচনগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হয় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে। যারা ইসরায়েলের সমালোচনা করেন, তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়াটা এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সহজ কথায়, আমেরিকান রাজনীতিতে নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ অনেক সময় বড় হয়ে দেখা দেয়। টাকা আর ক্ষমতার দাপটে সত্য চাপা পড়ে যায়।
এখন প্রশ্ন ওঠে, ইসরায়েল কি সত্যিই আমেরিকার শত্রু? নাকি আমেরিকার নীতিনির্ধারকরাই তাদের দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ইসরায়েলের হাতের পুতুল হয়ে গেছেন? যারা নিজের দেশের গোপন তথ্য, প্রযুক্তি এবং রাজনীতি অন্যের হাতে তুলে দেন, বিশ্বাসঘাতক আসলে কারা? ইসরায়েল, নাকি সেই সব প্রভাবশালী আমেরিকান, যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছেন? এই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
2.png)