আইন-কানুন
দেশের চিকিৎসা খাতে টিকার ভয়াবহ সংকট এবং এর জেরে সৃষ্ট হাম মহামারিতে শত শত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে এই নালিশি মামলাটি করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় আনা এই অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী।
মামলার বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, শিশুদের প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে সরকার উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘ দেড় বছর টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগকে বারবার সতর্ক করেছিলেন এবং আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই সতর্কবার্তা আমলে না নিয়ে চরম অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিচয় দিয়েছে। এই টালবাহানার কারণে দেশে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ার ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। টিকার অভাবে সরকারি হিসাব অনুযায়ীই অন্তত ৬১০ জন কোমলমতি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও এই মামলার অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগটি আমলে নেওয়ার বিষয়টি এখন বিচারিক বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
2.png)
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
দেশের চিকিৎসা খাতে টিকার ভয়াবহ সংকট এবং এর জেরে সৃষ্ট হাম মহামারিতে শত শত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে এই নালিশি মামলাটি করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় আনা এই অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী।
মামলার বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, শিশুদের প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে সরকার উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘ দেড় বছর টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগকে বারবার সতর্ক করেছিলেন এবং আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই সতর্কবার্তা আমলে না নিয়ে চরম অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিচয় দিয়েছে। এই টালবাহানার কারণে দেশে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ার ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। টিকার অভাবে সরকারি হিসাব অনুযায়ীই অন্তত ৬১০ জন কোমলমতি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও এই মামলার অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগটি আমলে নেওয়ার বিষয়টি এখন বিচারিক বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
2.png)