আইন-কানুন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনায় অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত দণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, জরিমানার এই টাকা ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। যদি আসামিরা এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সাধারণত বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগলেও, এই মামলার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দ্রুততা দেখিয়েছে আইন বিভাগ। ঘটনার পর মাত্র ১৭ দিনের মাথায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণার এই ঘটনা বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক—সবকিছুই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হন, তা স্তম্ভিত করে দেয় গোটা শহরকে। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়েছিল রামিসার মস্তকবিহীন দেহ, আর তার কাটা মাথাটি পাওয়া যায় ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকালে ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু রামিসা হত্যার বিচারই সম্পন্ন হলো না, বরং শিশু নির্যাতন ও বর্বরোচিত সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো।
2.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনায় অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত দণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, জরিমানার এই টাকা ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। যদি আসামিরা এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সাধারণত বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগলেও, এই মামলার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দ্রুততা দেখিয়েছে আইন বিভাগ। ঘটনার পর মাত্র ১৭ দিনের মাথায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণার এই ঘটনা বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক—সবকিছুই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হন, তা স্তম্ভিত করে দেয় গোটা শহরকে। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়েছিল রামিসার মস্তকবিহীন দেহ, আর তার কাটা মাথাটি পাওয়া যায় ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকালে ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু রামিসা হত্যার বিচারই সম্পন্ন হলো না, বরং শিশু নির্যাতন ও বর্বরোচিত সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো।
2.png)