সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

নতুন নেতৃত্বে চাঙ্গা শেয়ারবাজার: তিন মাসের শীর্ষে সূচক

বিএসইসিতে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢাকার শেয়ারবাজার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর আস্থার প্রতিফলন পড়েছে সূচক ও লেনদেনের পরিসংখ্যানে। তিন মাসের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আজ আবারও ডিএসইএক্স সূচক পার করেছে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা।

নতুন নেতৃত্বে চাঙ্গা শেয়ারবাজার: তিন মাসের শীর্ষে সূচক
ছবি -সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ ছিল তাদের প্রথম পূর্ণ কার্যদিবস। বাজারের এই প্রথম দিনেই লেনদেনের অংক পৌঁছেছে ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। দিনের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে, যা গত ২ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থান।

শেয়ারবাজারের এই উত্থানের পেছনে কেবল সূচকের গতি নয়, বড় প্রভাব ফেলেছে করপোরেট জগতের নতুন সমীকরণ। বাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা এখন নজর দিচ্ছেন শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দিকে। বিএসইসির নতুন নেতৃত্বে মাসুদ খানের যোগদানের পর তার অতীত কর্মস্থলের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রাউন সিমেন্ট, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার কিংবা লাফার্জহোলসিমের মতো কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সেই আস্থারই প্রতিফলন। এছাড়া সূচকের বড় উত্থানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, ওয়ালটন ও রেনাটার মতো কোম্পানিগুলো রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা।

ডিএসইর সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী বিষয়টি দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে যে আস্থার সংকট ছিল, নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে তা কাটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “অনেক বিনিয়োগকারী, যারা একসময় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন উদ্যমে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। নেতৃত্বের এই ইতিবাচক পরিবর্তন বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আনবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।”

আজকের বাজারের খাতভিত্তিক বিচারে সাধারণ বিমা এবং প্রকৌশল খাতের দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। এই দুই খাত থেকেই ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে। দিনশেষে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৪টির দর বেড়েছে, যেখানে ডমিনেজ স্টিল ছিল লেনদেনের শীর্ষে। বাজারের এই নতুন গতিপ্রকৃতি কেবল সূচক নয়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তির বাতাস।


বিষয় : শেয়ারবাজা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো গ্রামীণফোন

নতুন নেতৃত্বে চাঙ্গা শেয়ারবাজার: তিন মাসের শীর্ষে সূচক
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


নতুন নেতৃত্বে চাঙ্গা শেয়ারবাজার: তিন মাসের শীর্ষে সূচক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

বৃহস্পতিবার নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ ছিল তাদের প্রথম পূর্ণ কার্যদিবস। বাজারের এই প্রথম দিনেই লেনদেনের অংক পৌঁছেছে ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। দিনের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে, যা গত ২ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থান।

শেয়ারবাজারের এই উত্থানের পেছনে কেবল সূচকের গতি নয়, বড় প্রভাব ফেলেছে করপোরেট জগতের নতুন সমীকরণ। বাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা এখন নজর দিচ্ছেন শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দিকে। বিএসইসির নতুন নেতৃত্বে মাসুদ খানের যোগদানের পর তার অতীত কর্মস্থলের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রাউন সিমেন্ট, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার কিংবা লাফার্জহোলসিমের মতো কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সেই আস্থারই প্রতিফলন। এছাড়া সূচকের বড় উত্থানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, ওয়ালটন ও রেনাটার মতো কোম্পানিগুলো রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা।

ডিএসইর সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী বিষয়টি দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে যে আস্থার সংকট ছিল, নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে তা কাটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “অনেক বিনিয়োগকারী, যারা একসময় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন উদ্যমে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। নেতৃত্বের এই ইতিবাচক পরিবর্তন বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আনবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।”

আজকের বাজারের খাতভিত্তিক বিচারে সাধারণ বিমা এবং প্রকৌশল খাতের দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। এই দুই খাত থেকেই ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে। দিনশেষে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৪টির দর বেড়েছে, যেখানে ডমিনেজ স্টিল ছিল লেনদেনের শীর্ষে। বাজারের এই নতুন গতিপ্রকৃতি কেবল সূচক নয়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তির বাতাস।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত