আন্তর্জাতিক
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্মানে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরাম যখন সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছিল, ঠিক তখনই আকাশ কাঁপিয়ে নামল ইউক্রেনীয় ড্রোন। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ইতিহাসে সেন্ট পিটার্সবার্গের ওপর এমন ভয়াবহ ও নজিরবিহীন হামলা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, শহরের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার খাতিরে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফোরামের আভিজাত্য আর যুদ্ধের কঠোর বাস্তবতার এই সংঘাত রাশিয়ার নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় বার্তা নিয়ে এসেছে।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে তারা ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন। তবে এই সংখ্যাই প্রমাণ করে ইউক্রেনের হামলার ব্যাপকতা। একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল ডিপোতেও একই সাথে সফল অভিযান চালিয়েছে কিভ।
এমন এক সময়ে এই হামলা হলো, যখন জেলেনস্কি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন ইরানের দিকে সরে যাওয়ায় জেলেনস্কি সরাসরি পুতিনের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিন সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনীয়দের আলোচনার সুযোগ দেওয়া মানে তাদের সামরিকভাবে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া। দোনেৎস্ক, লুহানস্কসহ চারটি অঞ্চল থেকে ইউক্রেনকে সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন পুতিন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই হামলা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইউক্রেনের বর্ধিত সক্ষমতার বড় প্রমাণ। ইউক্রেনের ৪১৩তম ড্রোন রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস দাবি করেছেন, রাশিয়ার আকাশসীমায় এখন তারা প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই প্রবেশ করতে পারছেন। গত কয়েক মাসে জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস লক্ষ্য করে একের পর এক সফল হামলায় রাশিয়ার প্রায় দুই শতাধিক লরি ও ৩০টিরও বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি আধুনিক ও দূরপাল্লার হামলার জন্য প্রস্তুত, যা যুদ্ধের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
2.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্মানে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরাম যখন সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছিল, ঠিক তখনই আকাশ কাঁপিয়ে নামল ইউক্রেনীয় ড্রোন। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ইতিহাসে সেন্ট পিটার্সবার্গের ওপর এমন ভয়াবহ ও নজিরবিহীন হামলা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, শহরের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার খাতিরে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফোরামের আভিজাত্য আর যুদ্ধের কঠোর বাস্তবতার এই সংঘাত রাশিয়ার নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় বার্তা নিয়ে এসেছে।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে তারা ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন। তবে এই সংখ্যাই প্রমাণ করে ইউক্রেনের হামলার ব্যাপকতা। একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল ডিপোতেও একই সাথে সফল অভিযান চালিয়েছে কিভ।
এমন এক সময়ে এই হামলা হলো, যখন জেলেনস্কি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন ইরানের দিকে সরে যাওয়ায় জেলেনস্কি সরাসরি পুতিনের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিন সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনীয়দের আলোচনার সুযোগ দেওয়া মানে তাদের সামরিকভাবে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া। দোনেৎস্ক, লুহানস্কসহ চারটি অঞ্চল থেকে ইউক্রেনকে সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন পুতিন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই হামলা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইউক্রেনের বর্ধিত সক্ষমতার বড় প্রমাণ। ইউক্রেনের ৪১৩তম ড্রোন রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস দাবি করেছেন, রাশিয়ার আকাশসীমায় এখন তারা প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই প্রবেশ করতে পারছেন। গত কয়েক মাসে জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস লক্ষ্য করে একের পর এক সফল হামলায় রাশিয়ার প্রায় দুই শতাধিক লরি ও ৩০টিরও বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি আধুনিক ও দূরপাল্লার হামলার জন্য প্রস্তুত, যা যুদ্ধের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
2.png)