ত্বকের যত্নে এখন সানস্ক্রিন প্রায় অপরিহার্য একটি উপকরণ। তবে অনেকেই জানেন না, কেন এটি ব্যবহার করতে হয়, কখন ব্যবহার করা জরুরি, কিংবা কোন সানস্ক্রিনটি তার জন্য উপযুক্ত। সূর্যের আলো আমাদের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি এর কিছু অংশ ত্বকের জন্য ক্ষতিকরও।
সূর্যের আলোতে বিভিন্ন ধরনের রশ্মি থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো অতি বেগুনি বা আলট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি। এই UV রশ্মি আবার তিন ধরনের—এ, বি ও সি। এর মধ্যে UV-C পৃথিবীতে পৌঁছায় না, কারণ এটি ওজোন স্তরেই শোষিত হয়ে যায়। তবে UV-A ও UV-B সরাসরি আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে UV-B সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত।
ত্বকের ওপর অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব
অতিরিক্ত সূর্যালোকে থাকলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে, যা সানবার্ন নামে পরিচিত। ত্বক লালচে হয়ে যায়, কখনো বাদামি দাগ পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফোসকা, জ্বালাপোড়া, এমনকি অকাল বলিরেখাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে তীব্র থাকে। এই সময়টাতে বাইরে থাকলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বালু, পানি বা উঁচু স্থানে সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণও বাড়ে।
সুরক্ষায় কী করবেন
মাঝদুপুরে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করুন। ঢিলেঢালা ও পুরো শরীর ঢাকে এমন পোশাক পরুন। টুপি ব্যবহার করলে মুখ ও মাথা কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।
সানস্ক্রিন: কীভাবে কাজ করে
ত্বককে অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য যে পণ্যগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকেই বলা হয় সানস্ক্রিন। সাধারণত দুই ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়।
একটি কেমিক্যাল সানস্ক্রিন, যা UV রশ্মি শোষণ করে নেয়। অন্যটি ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন, যা রশ্মি প্রতিফলিত করে ত্বকে ঢুকতে বাধা দেয়।
বর্তমানে বাজারে স্প্রে, ক্রিম ও জেল—বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে কার্যকর হলো ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন, যা UV-A ও UV-B—উভয় ধরনের রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
এসপিএফ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিটি সানস্ক্রিনে একটি এসপিএফ (Sun Protection Factor) মান উল্লেখ থাকে। এটি বোঝায়, সানস্ক্রিনটি কতটা সময় ও কতটা কার্যকরভাবে ত্বককে রক্ষা করতে পারবে।
দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সাধারণত এসপিএফ ৩০ থেকে ৫০-এর মধ্যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই উপযুক্ত।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সানস্ক্রিন বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ত্বকে লাগাতে হবে। শরীরের যেসব অংশ খোলা থাকে, সেগুলোতে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
ঘাম হলে, বা পানি দিয়ে মুখ-হাত ধোয়ার পর আবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই নিজের ত্বকের জন্য উপযুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিতে হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
মনে রাখতে হবে
সানস্ক্রিন শুধু গরমের দিনের জন্য নয়, বরং সারা বছরই ত্বকের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ব্যবহারে ত্বক থাকবে সুস্থ, ঝলমলে এবং দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে পারবে।
বিষয় : লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য সানস্ক্রিন

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ত্বকের যত্নে এখন সানস্ক্রিন প্রায় অপরিহার্য একটি উপকরণ। তবে অনেকেই জানেন না, কেন এটি ব্যবহার করতে হয়, কখন ব্যবহার করা জরুরি, কিংবা কোন সানস্ক্রিনটি তার জন্য উপযুক্ত। সূর্যের আলো আমাদের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি এর কিছু অংশ ত্বকের জন্য ক্ষতিকরও।
সূর্যের আলোতে বিভিন্ন ধরনের রশ্মি থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো অতি বেগুনি বা আলট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি। এই UV রশ্মি আবার তিন ধরনের—এ, বি ও সি। এর মধ্যে UV-C পৃথিবীতে পৌঁছায় না, কারণ এটি ওজোন স্তরেই শোষিত হয়ে যায়। তবে UV-A ও UV-B সরাসরি আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে UV-B সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত।
ত্বকের ওপর অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব
অতিরিক্ত সূর্যালোকে থাকলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে, যা সানবার্ন নামে পরিচিত। ত্বক লালচে হয়ে যায়, কখনো বাদামি দাগ পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফোসকা, জ্বালাপোড়া, এমনকি অকাল বলিরেখাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে তীব্র থাকে। এই সময়টাতে বাইরে থাকলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বালু, পানি বা উঁচু স্থানে সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণও বাড়ে।
সুরক্ষায় কী করবেন
মাঝদুপুরে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করুন। ঢিলেঢালা ও পুরো শরীর ঢাকে এমন পোশাক পরুন। টুপি ব্যবহার করলে মুখ ও মাথা কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।
সানস্ক্রিন: কীভাবে কাজ করে
ত্বককে অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য যে পণ্যগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকেই বলা হয় সানস্ক্রিন। সাধারণত দুই ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়।
একটি কেমিক্যাল সানস্ক্রিন, যা UV রশ্মি শোষণ করে নেয়। অন্যটি ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন, যা রশ্মি প্রতিফলিত করে ত্বকে ঢুকতে বাধা দেয়।
বর্তমানে বাজারে স্প্রে, ক্রিম ও জেল—বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে কার্যকর হলো ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন, যা UV-A ও UV-B—উভয় ধরনের রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
এসপিএফ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিটি সানস্ক্রিনে একটি এসপিএফ (Sun Protection Factor) মান উল্লেখ থাকে। এটি বোঝায়, সানস্ক্রিনটি কতটা সময় ও কতটা কার্যকরভাবে ত্বককে রক্ষা করতে পারবে।
দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সাধারণত এসপিএফ ৩০ থেকে ৫০-এর মধ্যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই উপযুক্ত।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
সানস্ক্রিন বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ত্বকে লাগাতে হবে। শরীরের যেসব অংশ খোলা থাকে, সেগুলোতে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
ঘাম হলে, বা পানি দিয়ে মুখ-হাত ধোয়ার পর আবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই নিজের ত্বকের জন্য উপযুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিতে হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
মনে রাখতে হবে
সানস্ক্রিন শুধু গরমের দিনের জন্য নয়, বরং সারা বছরই ত্বকের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ব্যবহারে ত্বক থাকবে সুস্থ, ঝলমলে এবং দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে পারবে।
