লাইফ স্টাইল
পার্টিতে বা আত্মীয়র বাসায় গিয়ে অনেকেই লক্ষ্য করেন, নিজের সন্তানটি সবার সাথে হইহুল্লোড় না করে এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। বাবা-মা হিসেবে তখন অনেক সময় আমরা অস্বস্তিতে পড়ি, এমনকি অনেকের কাছে ছোটখাটো অভিযোগও শুনি, ‘আপনার বাচ্চাটা কি একটু বেশিই লাজুক?’ কিন্তু এই প্রশ্নটি করার আগেই আমাদের বোঝা প্রয়োজন, প্রতিটি শিশুর বিকাশের পথ আলাদা। যে শিশুকে আমরা ‘লাজুক’ বা ‘অন্তর্মুখী’ ভেবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি, তার হয়তো এক নিজস্ব জগত আছে, যেখানে সে নিজের মতো করে পৃথিবীটাকে দেখছে। অন্তর্মুখী হওয়া কোনো অসুখ নয়, এটি ব্যক্তিত্বের একটি বিশেষ ধরন মাত্র।
অন্তর্মুখী শিশুরা সাধারণত ভিড় কিংবা কোলাহল এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। তারা চারপাশ থেকে আসা উদ্দীপনা খুব দ্রুত গ্রহণ করে ফেলে, যে কারণে একটু একা থাকা বা শান্ত পরিবেশ তাদের মনের ব্যাটারি রিচার্জ করতে সাহায্য করে। এই শিশুরা অনেক বেশি মনোযোগী হয়, যেকোনো কাজ গভীরভাবে চিন্তা করে করার অভ্যাস থাকে তাদের। তাদের বন্ধুসংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু সেই অল্প কয়েকজনের সাথে তারা যে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তা অত্যন্ত মজবুত ও বিশ্বস্ত। তাই শিশুকে জোর করে সামাজিক করার চেষ্টা না করে, বরং তাদের এই নীরবতার পেছনের শক্তিকে চিনতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার সন্তান যদি অন্তর্মুখী হয়, তবে তাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে বরং তাকে আপন গতিতে চলতে দিন। তাকে বারবার সবার সামনে কথা বলতে বা পারফর্ম করতে বাধ্য করলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ার বদলে বরং ভেঙে যেতে পারে। বরং বাড়িতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে সে ভয়হীনভাবে নিজের মনের কথা বলতে পারে। সে যদি খেলতে গিয়ে একা থাকতে চায়, তবে তাকে সেই সুযোগ দিন; সে যদি বই পড়তে ভালোবাসে বা ছবি আঁকতে পছন্দ করে, তবে সেই কাজে উৎসাহ দিন। তাদের এই ছোট ছোট জগৎটিই তাদের সৃজনশীলতার আধার।
অভিভাবকদের বুঝতে হবে, একটি শিশু যে অল্প কথা বলে, সে অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ করে। সে হয়তো সরাসরি উত্তর দিচ্ছে না, কিন্তু তার চারপাশের মানুষের আচার-আচরণ সে খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করছে। তাকে সময় দিন, তার ওপর কোনো লেবেল লাগিয়ে দেবেন না। সমাজে সবসময় যে উচ্চকণ্ঠ মানুষেরই জয়জয়কার থাকে, এমন নয়; বরং পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক বড় মাপের চিন্তাবিদ, শিল্পী ও বিজ্ঞানী শৈশবে ছিলেন গভীর অন্তর্মুখী। আপনার সন্তানের সেই নীরবতা হয়তো কোনো এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পূর্বাভাস, শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা ও বিশ্বাসের জায়গা।
বিষয় : অন্তর্মুখী শিশু ইন্ট্রোভার্ট
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
পার্টিতে বা আত্মীয়র বাসায় গিয়ে অনেকেই লক্ষ্য করেন, নিজের সন্তানটি সবার সাথে হইহুল্লোড় না করে এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। বাবা-মা হিসেবে তখন অনেক সময় আমরা অস্বস্তিতে পড়ি, এমনকি অনেকের কাছে ছোটখাটো অভিযোগও শুনি, ‘আপনার বাচ্চাটা কি একটু বেশিই লাজুক?’ কিন্তু এই প্রশ্নটি করার আগেই আমাদের বোঝা প্রয়োজন, প্রতিটি শিশুর বিকাশের পথ আলাদা। যে শিশুকে আমরা ‘লাজুক’ বা ‘অন্তর্মুখী’ ভেবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি, তার হয়তো এক নিজস্ব জগত আছে, যেখানে সে নিজের মতো করে পৃথিবীটাকে দেখছে। অন্তর্মুখী হওয়া কোনো অসুখ নয়, এটি ব্যক্তিত্বের একটি বিশেষ ধরন মাত্র।
অন্তর্মুখী শিশুরা সাধারণত ভিড় কিংবা কোলাহল এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। তারা চারপাশ থেকে আসা উদ্দীপনা খুব দ্রুত গ্রহণ করে ফেলে, যে কারণে একটু একা থাকা বা শান্ত পরিবেশ তাদের মনের ব্যাটারি রিচার্জ করতে সাহায্য করে। এই শিশুরা অনেক বেশি মনোযোগী হয়, যেকোনো কাজ গভীরভাবে চিন্তা করে করার অভ্যাস থাকে তাদের। তাদের বন্ধুসংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু সেই অল্প কয়েকজনের সাথে তারা যে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তা অত্যন্ত মজবুত ও বিশ্বস্ত। তাই শিশুকে জোর করে সামাজিক করার চেষ্টা না করে, বরং তাদের এই নীরবতার পেছনের শক্তিকে চিনতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার সন্তান যদি অন্তর্মুখী হয়, তবে তাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে বরং তাকে আপন গতিতে চলতে দিন। তাকে বারবার সবার সামনে কথা বলতে বা পারফর্ম করতে বাধ্য করলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ার বদলে বরং ভেঙে যেতে পারে। বরং বাড়িতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে সে ভয়হীনভাবে নিজের মনের কথা বলতে পারে। সে যদি খেলতে গিয়ে একা থাকতে চায়, তবে তাকে সেই সুযোগ দিন; সে যদি বই পড়তে ভালোবাসে বা ছবি আঁকতে পছন্দ করে, তবে সেই কাজে উৎসাহ দিন। তাদের এই ছোট ছোট জগৎটিই তাদের সৃজনশীলতার আধার।
অভিভাবকদের বুঝতে হবে, একটি শিশু যে অল্প কথা বলে, সে অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ করে। সে হয়তো সরাসরি উত্তর দিচ্ছে না, কিন্তু তার চারপাশের মানুষের আচার-আচরণ সে খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করছে। তাকে সময় দিন, তার ওপর কোনো লেবেল লাগিয়ে দেবেন না। সমাজে সবসময় যে উচ্চকণ্ঠ মানুষেরই জয়জয়কার থাকে, এমন নয়; বরং পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক বড় মাপের চিন্তাবিদ, শিল্পী ও বিজ্ঞানী শৈশবে ছিলেন গভীর অন্তর্মুখী। আপনার সন্তানের সেই নীরবতা হয়তো কোনো এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পূর্বাভাস, শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা ও বিশ্বাসের জায়গা।
2.png)