জাতীয়
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার দশক পর গ্রেফতার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মোজাফফর হোসেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাকে একটি বিশেষ ইউনিটে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ, মরদেহ সরানোর প্রক্রিয়া এবং ঘটনার পর ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা সীমিত করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তার গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা, বিচার প্রক্রিয়া এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যেহেতু মোজাফফর ঘটনাটির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত, তাই তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করে আনা জরুরি। তাদের মতে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে শুধুমাত্র শাস্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী অনেক আগেই মোজাফফরকে পলাতক হিসেবে ঘোষণা করেছিল। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও অন্যদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মোজাফফর পলাতক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন মেজর মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি পুরো ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য পলাতক থাকলে তাকে ‘অ্যাবসকন্ড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। কোর্ট মার্শালে বিচার সম্পন্ন করতে অভিযুক্তের উপস্থিতি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতদিন তার বিচার এগোয়নি।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমের মতে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তিনি বলেন, মোজাফফরের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পরই পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার দাবি, এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে একসময় মোজাফফরকে ধরিয়ে দিতে দুই লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ঘোষণা প্রচার করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে তিনি গ্রেফতার হন। পরে আইন অনুযায়ী তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর প্রথমে দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করেন। পরে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর তিনি জনসমক্ষে খুব কমই আসতেন এবং নীরব জীবনযাপন করতেন।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, এই মামলায় সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে তারা আশা করছে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, মোজাফফরের বিচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের পরিচয়ও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের দাবি, কে বা কারা তাকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছে, বিদেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
বিএনপির এক উপদেষ্টা বলেন, অধিকতর তদন্তের জন্য মোজাফফরকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে। তার আশা, তদন্তের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটি স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে দ্রুত শাস্তি কার্যকর করা হলে ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি অজানাই থেকে যেতে পারে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই গ্রেফতার তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারা সরাসরি জড়িত ছিল, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এ ঘটনার রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধাভোগী ছিল কি না—সবকিছু জনসমক্ষে তুলে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
2.png)
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার দশক পর গ্রেফতার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মোজাফফর হোসেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাকে একটি বিশেষ ইউনিটে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ, মরদেহ সরানোর প্রক্রিয়া এবং ঘটনার পর ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা সীমিত করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তার গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা, বিচার প্রক্রিয়া এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য, যেহেতু মোজাফফর ঘটনাটির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত, তাই তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করে আনা জরুরি। তাদের মতে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে শুধুমাত্র শাস্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী অনেক আগেই মোজাফফরকে পলাতক হিসেবে ঘোষণা করেছিল। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও অন্যদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মোজাফফর পলাতক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন মেজর মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি পুরো ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য পলাতক থাকলে তাকে ‘অ্যাবসকন্ড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। কোর্ট মার্শালে বিচার সম্পন্ন করতে অভিযুক্তের উপস্থিতি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতদিন তার বিচার এগোয়নি।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমের মতে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তিনি বলেন, মোজাফফরের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পরই পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার দাবি, এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের সম্পৃক্ততা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে একসময় মোজাফফরকে ধরিয়ে দিতে দুই লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ঘোষণা প্রচার করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে তিনি গ্রেফতার হন। পরে আইন অনুযায়ী তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর প্রথমে দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করেন। পরে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর তিনি জনসমক্ষে খুব কমই আসতেন এবং নীরব জীবনযাপন করতেন।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, এই মামলায় সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে তারা আশা করছে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, মোজাফফরের বিচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের পরিচয়ও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের দাবি, কে বা কারা তাকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছে, বিদেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
বিএনপির এক উপদেষ্টা বলেন, অধিকতর তদন্তের জন্য মোজাফফরকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে। তার আশা, তদন্তের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটি স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে দ্রুত শাস্তি কার্যকর করা হলে ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি অজানাই থেকে যেতে পারে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই গ্রেফতার তদন্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারা সরাসরি জড়িত ছিল, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এ ঘটনার রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধাভোগী ছিল কি না—সবকিছু জনসমক্ষে তুলে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
2.png)