স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
বাংলাদেশে উদ্ভাবিত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’ প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল হয়েছে। গত ১৩ জুলাই প্রয়োজনীয় নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে একজন পোস্ট-কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (কোমা স্কেল-৩) রোগীর ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ট্রায়াল শেষে ১৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড ফলাফল পর্যালোচনা করে এটিকে সফল ঘোষণা করে। বোর্ড রোগীকে দুই দফা মূল্যায়নও করেছে। এখন যন্ত্রটির আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকেরা।
করোনা মহামারির সময় দেশে ভেন্টিলেটরের ভয়াবহ সংকট বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তখন প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের অনেক হাসপাতালেই এখনও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। সেই বাস্তবতা থেকেই দেশীয় প্রযুক্তিতে সহজলভ্য ও কম খরচের একটি ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নেন তিন গবেষক।
প্রায় সাত বছর ধরে নিজেদের অর্থায়নে গবেষণা চালিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজী সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর, জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. আসিফ উর রহমান এবং প্রকৌশলী বোয়াজিদ মুক্তাদির শুভ। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে এই ভেন্টিলেটর শুধু হাসপাতালেই নয়, ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ব্যবহারেও কাজে লাগতে পারে।
আইসিইউতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর দেখেছেন, অনেক রোগী শুধু ব্যয়ের কারণে প্রয়োজনীয় সময় ভেন্টিলেটর সুবিধা পান না। বিদেশি যন্ত্রের উচ্চমূল্য এবং পরিচালন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে হওয়ায় তিনি দেশেই কম খরচে বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন।
করোনা মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে ভেন্টিলেটর রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়লে সেই চিন্তাই বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে। তিনি প্রকৌশলী বোয়াজিদ মুক্তাদির শুভকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে দলে যোগ দেন আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফ উর রহমান।
বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনার সুযোগ সীমিত থাকায় স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ দিয়েই তৈরি হয় তাদের প্রথম প্রোটোটাইপ ‘স্পন্দন’। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেই যন্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহার চিকিৎসকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করলেও চিকিৎসা-যন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
তবে গবেষণা থেমে থাকেনি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুনভাবে তৈরি করা হয় ‘ভেন্টাস’।
ভেন্টিলেটর এমন একটি চিকিৎসা-যন্ত্র, যা গুরুতর অসুস্থ রোগীর ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারলে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে সহায়তা করে।
গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভেন্টিলেটর তৈরি করা, যা হবে তুলনামূলক কম দামের, বহনযোগ্য এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহজে ব্যবহারযোগ্য।
ডা. আসিফ উর রহমান জানান, প্রচলিত অনেক ভেন্টিলেটরে অসংখ্য মোড থাকলেও দেশের অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসায় সবগুলো প্রয়োজন হয় না। তাই প্রয়োজনীয় কয়েকটি কার্যকর মোড নিয়েই ‘ভেন্টাস’ তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে যন্ত্রটিতে তিনটি ভেন্টিলেশন মোডের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে এবং বাকি দুটি মোডের সফটওয়্যার প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে সেগুলোও যুক্ত করা হবে।
‘ভেন্টাস’ তিনভাবে পরিচালনা করা যাবে—
পরিবেশের স্বাভাবিক বাতাস ব্যবহার করে,
অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে,
অথবা হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সহায়তায়।
গবেষকদের ভাষ্য, কোথাও অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকলেও বা সিলিন্ডার না মিললেও পরিবেশের বাতাস ব্যবহার করে রোগীকে প্রাথমিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা দিতে সক্ষম হবে যন্ত্রটি।
এটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে রোগীর শ্বাসনালি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করতে পারে। তাদের দাবি, সরল নকশার কারণে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ভেন্টিলেশন শুরু করা সম্ভব হবে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা দাবি করছেন না যে ‘ভেন্টাস’ বিশ্বের উন্নতমানের সব ভেন্টিলেটরের বিকল্প। বরং নির্দিষ্ট চিকিৎসা-পরিস্থিতিতে এটি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলেই তাদের বিশ্বাস।
গবেষকদের মতে, ‘ভেন্টাস’ তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় ভেন্টিলেটর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
তাদের উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস হারালে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই যন্ত্র রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
বিদেশ থেকে একটি আধুনিক মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর আনতে যেখানে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, সেখানে ‘ভেন্টাস’-এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ প্রায় এক লাখ টাকায় তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের। তিনটি ভেন্টিলেশন মোডসহ পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ তৈরি করতে ব্যয় হতে পারে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হলে এই ব্যয় আরও কমবে বলেও তারা মনে করেন।
প্রাথমিক ট্রায়ালে সফল হলেও গবেষকরা বলছেন, ‘ভেন্টাস’কে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা-যন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষরের ভাষায়, তাদের লক্ষ্য শুধু একটি যন্ত্র তৈরি করা নয়; বরং বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ব্যবহার নিশ্চিত করা, যাতে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে।
এ পর্যন্ত পুরো গবেষণাই নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে বলে জানান ডা. আসিফ উর রহমান। তার মতে, পরবর্তী ধাপে যেতে সরকারি সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ জরুরি।
গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকার ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগে ‘ভেন্টাস’-এর উন্নত সংস্করণ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
2.png)
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে উদ্ভাবিত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর ‘ভেন্টাস’ প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল হয়েছে। গত ১৩ জুলাই প্রয়োজনীয় নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে একজন পোস্ট-কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (কোমা স্কেল-৩) রোগীর ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। ট্রায়াল শেষে ১৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড ফলাফল পর্যালোচনা করে এটিকে সফল ঘোষণা করে। বোর্ড রোগীকে দুই দফা মূল্যায়নও করেছে। এখন যন্ত্রটির আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকেরা।
করোনা মহামারির সময় দেশে ভেন্টিলেটরের ভয়াবহ সংকট বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তখন প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের অনেক হাসপাতালেই এখনও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। সেই বাস্তবতা থেকেই দেশীয় প্রযুক্তিতে সহজলভ্য ও কম খরচের একটি ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নেন তিন গবেষক।
প্রায় সাত বছর ধরে নিজেদের অর্থায়নে গবেষণা চালিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজী সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর, জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. আসিফ উর রহমান এবং প্রকৌশলী বোয়াজিদ মুক্তাদির শুভ। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে এই ভেন্টিলেটর শুধু হাসপাতালেই নয়, ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ব্যবহারেও কাজে লাগতে পারে।
আইসিইউতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর দেখেছেন, অনেক রোগী শুধু ব্যয়ের কারণে প্রয়োজনীয় সময় ভেন্টিলেটর সুবিধা পান না। বিদেশি যন্ত্রের উচ্চমূল্য এবং পরিচালন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে হওয়ায় তিনি দেশেই কম খরচে বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন।
করোনা মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে ভেন্টিলেটর রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়লে সেই চিন্তাই বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে। তিনি প্রকৌশলী বোয়াজিদ মুক্তাদির শুভকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে দলে যোগ দেন আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফ উর রহমান।
বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনার সুযোগ সীমিত থাকায় স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ দিয়েই তৈরি হয় তাদের প্রথম প্রোটোটাইপ ‘স্পন্দন’। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেই যন্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহার চিকিৎসকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করলেও চিকিৎসা-যন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
তবে গবেষণা থেমে থাকেনি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুনভাবে তৈরি করা হয় ‘ভেন্টাস’।
ভেন্টিলেটর এমন একটি চিকিৎসা-যন্ত্র, যা গুরুতর অসুস্থ রোগীর ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারলে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে সহায়তা করে।
গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভেন্টিলেটর তৈরি করা, যা হবে তুলনামূলক কম দামের, বহনযোগ্য এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহজে ব্যবহারযোগ্য।
ডা. আসিফ উর রহমান জানান, প্রচলিত অনেক ভেন্টিলেটরে অসংখ্য মোড থাকলেও দেশের অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসায় সবগুলো প্রয়োজন হয় না। তাই প্রয়োজনীয় কয়েকটি কার্যকর মোড নিয়েই ‘ভেন্টাস’ তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে যন্ত্রটিতে তিনটি ভেন্টিলেশন মোডের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে এবং বাকি দুটি মোডের সফটওয়্যার প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে সেগুলোও যুক্ত করা হবে।
‘ভেন্টাস’ তিনভাবে পরিচালনা করা যাবে—
পরিবেশের স্বাভাবিক বাতাস ব্যবহার করে,
অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে,
অথবা হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সহায়তায়।
গবেষকদের ভাষ্য, কোথাও অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকলেও বা সিলিন্ডার না মিললেও পরিবেশের বাতাস ব্যবহার করে রোগীকে প্রাথমিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা দিতে সক্ষম হবে যন্ত্রটি।
এটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে রোগীর শ্বাসনালি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করতে পারে। তাদের দাবি, সরল নকশার কারণে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ভেন্টিলেশন শুরু করা সম্ভব হবে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা দাবি করছেন না যে ‘ভেন্টাস’ বিশ্বের উন্নতমানের সব ভেন্টিলেটরের বিকল্প। বরং নির্দিষ্ট চিকিৎসা-পরিস্থিতিতে এটি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলেই তাদের বিশ্বাস।
গবেষকদের মতে, ‘ভেন্টাস’ তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় ভেন্টিলেটর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
তাদের উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস হারালে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই যন্ত্র রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
বিদেশ থেকে একটি আধুনিক মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর আনতে যেখানে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, সেখানে ‘ভেন্টাস’-এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ প্রায় এক লাখ টাকায় তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের। তিনটি ভেন্টিলেশন মোডসহ পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ তৈরি করতে ব্যয় হতে পারে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হলে এই ব্যয় আরও কমবে বলেও তারা মনে করেন।
প্রাথমিক ট্রায়ালে সফল হলেও গবেষকরা বলছেন, ‘ভেন্টাস’কে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা-যন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষরের ভাষায়, তাদের লক্ষ্য শুধু একটি যন্ত্র তৈরি করা নয়; বরং বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ব্যবহার নিশ্চিত করা, যাতে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে।
এ পর্যন্ত পুরো গবেষণাই নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে বলে জানান ডা. আসিফ উর রহমান। তার মতে, পরবর্তী ধাপে যেতে সরকারি সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ জরুরি।
গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকার ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগে ‘ভেন্টাস’-এর উন্নত সংস্করণ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
2.png)