লাইফ স্টাইল
পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কুরবানি করেন, যা একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টন করা সুন্নত। তবে কুরবানির বিপুল পরিমাণ গোশত দেখে অনেকে ঘাবড়ে যান। সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি জানা না থাকলে গোশতের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুইই নষ্ট হতে পারে। একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই গোশত দীর্ঘদিন সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।
কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রথম ধাপ হলো সঠিকভাবে পানি ঝরিয়ে নেওয়া। জবাইয়ের পর গোশত ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ রক্ত বা পানি লেগে থাকলে গোশতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। অনেকেই বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে গাদা গাদা গোশত ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, যা মোটেও সঠিক নয়। গোশত সংরক্ষণের জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন অথবা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এক বেলার রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি করে রাখা যায়। এতে বারবার বড় প্যাকেট বের করার ঝামেলা থাকে না এবং গোশতের মানও ঠিক থাকে।
অনেকেই ভুলবশত ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে আবার ফ্রিজে রেখে দেন। এটি গোশতের গুণমান ও পুষ্টি নষ্ট করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বরফ গলানো গোশত পুনরায় ফ্রিজে না রেখে ব্যবহারের সুবিধামতো ভাগ করেই রাখা উচিত। এছাড়া ফ্রিজের ভেতরে গোশত রাখার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা গোশত কখনো আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের পাশে রাখা উচিত নয়। এগুলোতে অন্য খাবারের গন্ধ মিশে যাওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। ডিপ ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় এবং নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে গরুর গোশত ছয় মাস পর্যন্ত সতেজ ও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
কুরবানির আনন্দ যেন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ম্লান না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। সঠিক নিয়ম মেনে গোশত সংরক্ষণ করলে যেমন এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন। তাই এবারের ঈদে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপ মেনে চলুন, যাতে আপনার পরিবার থেকে সুস্থ্য।
বিষয় : গোশত সংরক্ষণ কার্যকর উপায়
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কুরবানি করেন, যা একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টন করা সুন্নত। তবে কুরবানির বিপুল পরিমাণ গোশত দেখে অনেকে ঘাবড়ে যান। সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি জানা না থাকলে গোশতের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুইই নষ্ট হতে পারে। একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই গোশত দীর্ঘদিন সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।
কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রথম ধাপ হলো সঠিকভাবে পানি ঝরিয়ে নেওয়া। জবাইয়ের পর গোশত ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ রক্ত বা পানি লেগে থাকলে গোশতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। অনেকেই বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে গাদা গাদা গোশত ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, যা মোটেও সঠিক নয়। গোশত সংরক্ষণের জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন অথবা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এক বেলার রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি করে রাখা যায়। এতে বারবার বড় প্যাকেট বের করার ঝামেলা থাকে না এবং গোশতের মানও ঠিক থাকে।
অনেকেই ভুলবশত ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে আবার ফ্রিজে রেখে দেন। এটি গোশতের গুণমান ও পুষ্টি নষ্ট করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বরফ গলানো গোশত পুনরায় ফ্রিজে না রেখে ব্যবহারের সুবিধামতো ভাগ করেই রাখা উচিত। এছাড়া ফ্রিজের ভেতরে গোশত রাখার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা গোশত কখনো আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের পাশে রাখা উচিত নয়। এগুলোতে অন্য খাবারের গন্ধ মিশে যাওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। ডিপ ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় এবং নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে গরুর গোশত ছয় মাস পর্যন্ত সতেজ ও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
কুরবানির আনন্দ যেন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ম্লান না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। সঠিক নিয়ম মেনে গোশত সংরক্ষণ করলে যেমন এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন। তাই এবারের ঈদে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপ মেনে চলুন, যাতে আপনার পরিবার থেকে সুস্থ্য।
2.png)