আন্তর্জাতিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাস গ্রামে একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খ্রিস্টানদের দাবি, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে ক্রস, দরজা ও পিলার ভেঙে ফেলে। একই সঙ্গে এলাকার খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়।
বিবিসি বাংলার সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন চার্চটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা চার্চের ছাদে থাকা তিনটি ক্রস ভেঙে দেয় এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংবিধানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা হলেও হামলাকারীদের আচরণে তারা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা এলাকায় চার্চ নির্মাণের বিরোধিতা করে এবং অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলে।
আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা তাদের শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ধর্মান্তরিত বলে আখ্যা দেয়। তিনি বলেন, জীবনে এই প্রথম কেউ চার্চের ক্রস ভেঙে দিয়েছে। ক্রস রক্ষা করতে তারা হামলাকারীদের অনুরোধ করলেও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেছেন, তাদের দলের সদস্যরা ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের বিরোধিতা করে তার সংগঠন।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এদিকে খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা বলেছে, এটি একক কোনো ঘটনা নয়। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানান, গত দুই সপ্তাহে অন্তত চারটি বড় ঘটনার তথ্য তাদের কাছে এসেছে, যা সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিষয় : পশ্চিম বঙ্গ চার্চে হামলা
2.png)
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাস গ্রামে একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খ্রিস্টানদের দাবি, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে ক্রস, দরজা ও পিলার ভেঙে ফেলে। একই সঙ্গে এলাকার খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়।
বিবিসি বাংলার সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন চার্চটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা চার্চের ছাদে থাকা তিনটি ক্রস ভেঙে দেয় এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংবিধানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা হলেও হামলাকারীদের আচরণে তারা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা এলাকায় চার্চ নির্মাণের বিরোধিতা করে এবং অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলে।
আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা তাদের শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ধর্মান্তরিত বলে আখ্যা দেয়। তিনি বলেন, জীবনে এই প্রথম কেউ চার্চের ক্রস ভেঙে দিয়েছে। ক্রস রক্ষা করতে তারা হামলাকারীদের অনুরোধ করলেও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেছেন, তাদের দলের সদস্যরা ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের বিরোধিতা করে তার সংগঠন।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এদিকে খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা বলেছে, এটি একক কোনো ঘটনা নয়। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানান, গত দুই সপ্তাহে অন্তত চারটি বড় ঘটনার তথ্য তাদের কাছে এসেছে, যা সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
2.png)