লাইফ স্টাইল
ঈদ মানেই আনন্দ আর ভুরিভোজের উৎসব। পোলাও, কোরমা, নেহারি, কাবাব কিংবা মিষ্টি—এত সব সুস্বাদু ও গুরুপাক খাবারের হাতছানি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই শরীরে তার বিরূপ প্রভাব টের পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের টানা অনিয়মে পেট ভারী হওয়া, হজমের সমস্যা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা শরীর ফুলে যাওয়ার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই। তবে ভয়ের কিছু নেই; সচেতন খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তনে শরীরকে খুব সহজেই আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আমাদের শরীর এখন আর ভারী খাবার চাইছে না, বরং তার প্রয়োজন সুষম, হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য পুষ্টি। খাবারের ভারসাম্য ফেরাতে প্লেটের অর্ধেকটা দখল করুক শাকসবজি ও সালাদ। এক-চতুর্থাংশ রাখুন প্রোটিন—যেমন মাছ, মুরগির মাংস বা ডাল। আর বাকি এক-চতুর্থাংশ হতে পারে শর্করা বা ভাত-রুটি। ওটস বা আঁশসমৃদ্ধ শর্করা বেছে নিলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
অনেকে মনে করেন ওজন কমাতে খাবার কমিয়ে দেওয়াই সেরা সমাধান। এটি ভুল ধারণা। বরং খাবারের তালিকায় পরিমিত প্রোটিন বজায় রাখা জরুরি। মাছ, ডিম, ছোলা কিংবা টক দই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। শসা, গাজর, লাউ, পেঁপে কিংবা টাটকা ফল হজমশক্তি ঠিক রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। ভারী খাবারের পর শরীরে লবণের আধিক্য পানি জমিয়ে ফোলা ভাব তৈরি করে। এটি কাটাতে প্রচুর পানি পানের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন, তবে মনে রাখবেন, খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই পানি পান না করে অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর পান করা ভালো। কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি জুসের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
মিষ্টি কিংবা প্রসেসড খাবার ঘরে রয়ে গেলে সেগুলো খাওয়ার লোভ সামলাতে হবে। চা বা কফিতে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাসটাও আজই বর্জন করুন। রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা রাখুন। আটটার মধ্যে রাতের আহার সেরে নেওয়ার অভ্যাস করলে হজমে সুবিধা হয় এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে না। রাতে শোয়ার অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার গ্রহণ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হয়।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরকে সচল রাখাটাও খুব জরুরি। টানা ভারী খাওয়ার পর হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা খাওয়ার পরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঈদের ছুটিতে অনিয়মিত ঘুম শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাই স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসা এবং রাতে পর্যাপ্ত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা এখন খুব প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, স্কেলের কাঁটা ১-২ কেজি বেশি দেখালে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; এর অনেকটাই শরীর থেকে পানি ঝরে গেলে ঠিক হয়ে যাবে। ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় ফিরে আসুন। ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তির জোরে কয়েক দিন সচেতন থাকলেই আপনার শরীর আবার আগের মতো সতেজ ও কর্মক্ষম হয়ে উঠবে।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
ঈদ মানেই আনন্দ আর ভুরিভোজের উৎসব। পোলাও, কোরমা, নেহারি, কাবাব কিংবা মিষ্টি—এত সব সুস্বাদু ও গুরুপাক খাবারের হাতছানি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই শরীরে তার বিরূপ প্রভাব টের পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের টানা অনিয়মে পেট ভারী হওয়া, হজমের সমস্যা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা শরীর ফুলে যাওয়ার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই। তবে ভয়ের কিছু নেই; সচেতন খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তনে শরীরকে খুব সহজেই আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আমাদের শরীর এখন আর ভারী খাবার চাইছে না, বরং তার প্রয়োজন সুষম, হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য পুষ্টি। খাবারের ভারসাম্য ফেরাতে প্লেটের অর্ধেকটা দখল করুক শাকসবজি ও সালাদ। এক-চতুর্থাংশ রাখুন প্রোটিন—যেমন মাছ, মুরগির মাংস বা ডাল। আর বাকি এক-চতুর্থাংশ হতে পারে শর্করা বা ভাত-রুটি। ওটস বা আঁশসমৃদ্ধ শর্করা বেছে নিলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
অনেকে মনে করেন ওজন কমাতে খাবার কমিয়ে দেওয়াই সেরা সমাধান। এটি ভুল ধারণা। বরং খাবারের তালিকায় পরিমিত প্রোটিন বজায় রাখা জরুরি। মাছ, ডিম, ছোলা কিংবা টক দই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। শসা, গাজর, লাউ, পেঁপে কিংবা টাটকা ফল হজমশক্তি ঠিক রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। ভারী খাবারের পর শরীরে লবণের আধিক্য পানি জমিয়ে ফোলা ভাব তৈরি করে। এটি কাটাতে প্রচুর পানি পানের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন, তবে মনে রাখবেন, খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই পানি পান না করে অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর পান করা ভালো। কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি জুসের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
মিষ্টি কিংবা প্রসেসড খাবার ঘরে রয়ে গেলে সেগুলো খাওয়ার লোভ সামলাতে হবে। চা বা কফিতে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাসটাও আজই বর্জন করুন। রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা রাখুন। আটটার মধ্যে রাতের আহার সেরে নেওয়ার অভ্যাস করলে হজমে সুবিধা হয় এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে না। রাতে শোয়ার অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার গ্রহণ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হয়।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরকে সচল রাখাটাও খুব জরুরি। টানা ভারী খাওয়ার পর হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা খাওয়ার পরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঈদের ছুটিতে অনিয়মিত ঘুম শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাই স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসা এবং রাতে পর্যাপ্ত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা এখন খুব প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, স্কেলের কাঁটা ১-২ কেজি বেশি দেখালে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; এর অনেকটাই শরীর থেকে পানি ঝরে গেলে ঠিক হয়ে যাবে। ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় ফিরে আসুন। ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তির জোরে কয়েক দিন সচেতন থাকলেই আপনার শরীর আবার আগের মতো সতেজ ও কর্মক্ষম হয়ে উঠবে।
2.png)