অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক টানাপোড়েনের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা ১১০–১২০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহের পথ খুঁজতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে শীত মৌসুমের আগেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক পর্যটন ও বাণিজ্য খাতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ, এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে—যার অভিঘাত অনুভূত হচ্ছে বাজার থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যন্ত সর্বত্র।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক টানাপোড়েনের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা ১১০–১২০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহের পথ খুঁজতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে শীত মৌসুমের আগেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক পর্যটন ও বাণিজ্য খাতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ, এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে—যার অভিঘাত অনুভূত হচ্ছে বাজার থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যন্ত সর্বত্র।
