বানিজ্য
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এক কালো মেঘের আভা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। টানা দুই মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মে মাসে আবারও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার যে আশা দেখা দিয়েছিল, তা যেন এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ অতীতের সব রেকর্ডকে স্পর্শ করার উপক্রম করেছে। বিবিএস-এর তথ্যানুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম ও মুরগির মাংসের লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এই খাদ্যদ্রব্যের চড়া দামই মূলত মূল্যস্ফীতির পারদকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের খরচ বাড়িয়েছে খাদ্যবহির্ভূত খাতের ব্যয়। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মূলত জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে ইউটিলিটি বিল ও যাতায়াত খরচের এই সমন্বিত বৃদ্ধিই এখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্রও এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার শহরাঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, মূল্যস্ফীতির এই ধকল কেবল শহরের বাসিন্দারাই নয়, বরং গ্রামের প্রান্তিক মানুষও সমানতালে বহন করছেন। সামগ্রিকভাবে, অর্থনীতির এই সূচকটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর যে কঠিন সময় নিয়ে এসেছে, তা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
2.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এক কালো মেঘের আভা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। টানা দুই মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মে মাসে আবারও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার যে আশা দেখা দিয়েছিল, তা যেন এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ অতীতের সব রেকর্ডকে স্পর্শ করার উপক্রম করেছে। বিবিএস-এর তথ্যানুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম ও মুরগির মাংসের লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এই খাদ্যদ্রব্যের চড়া দামই মূলত মূল্যস্ফীতির পারদকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের খরচ বাড়িয়েছে খাদ্যবহির্ভূত খাতের ব্যয়। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মূলত জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে ইউটিলিটি বিল ও যাতায়াত খরচের এই সমন্বিত বৃদ্ধিই এখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্রও এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার শহরাঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, মূল্যস্ফীতির এই ধকল কেবল শহরের বাসিন্দারাই নয়, বরং গ্রামের প্রান্তিক মানুষও সমানতালে বহন করছেন। সামগ্রিকভাবে, অর্থনীতির এই সূচকটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর যে কঠিন সময় নিয়ে এসেছে, তা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
2.png)