সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

এনবিআরের নতুন ছক: সব ব্যবসা এখন ভ্যাটের জালে

টার্নওভারের শর্ত শিথিল করে ভ্যাটের আওতা বাড়াচ্ছে এনবিআর। নির্দিষ্ট হারে মাসিক কর পরিশোধের নতুন প্রস্তাব নিয়ে তোড়জোড়।

এনবিআরের নতুন ছক: সব ব্যবসা এখন ভ্যাটের জালে
ছবি -সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আসন্ন বাজেটে ভ্যাট কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতদিন টার্নওভারের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার যে রেওয়াজ ছিল, নতুন পরিকল্পনায় সেই সীমা তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এতে কার্যত দেশের প্রায় সব ধরনের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় চলে আসবে, যেখানে টার্নওভারের হিসেব-নিকেশের পরিবর্তে নির্ধারণ করা হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসিক কর।

এনবিআরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা টার্নওভারের শর্তটি বাতিল করে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৪ শতাংশ টার্নওভার ভ্যাটের বদলে মাসিক এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘সুনির্দিষ্ট ভ্যাট’ বা ফিক্সড ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব থাকছে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের বছরে ১২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হতে পারে। তবে এই কর কাঠামোর আওতায় এলে তাদের ভাড়ার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট আর আলাদা করে পরিশোধ করতে হবে না, কারণ নতুন প্রস্তাবিত করের মধ্যেই সেটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি হলো, অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে এমআরপি বা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট আদায় করে থাকেন, কিন্তু সেই টাকা ঠিকমতো সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে না। এই রাজস্বের বড় একটি অংশই যথাযথ নজরদারির অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এখনই বড় ধরনের করের বোঝা না চাপিয়ে, একটি সহজ ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে তাদের নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে সবাইকে আনতে সরকার বেশ কিছু কৌশলগত শর্তের ওপর জোর দিচ্ছে। এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার কিংবা কোনো ট্রেড বডির সদস্য হতে গেলেও ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ বাধ্যতামূলক করা হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা পরিচালনার প্রাথমিক ধাপগুলো পূরণ করতে গেলেই ভ্যাটের নিবন্ধন নেওয়াটা অপরিহার্য হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পর গত ৩৫ বছরেও নিবন্ধনের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখে আটকে আছে, যার একটি বড় অংশ আবার নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে না। এবার এনবিআর অন্তত ২০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিষয় : ভ্যাট নিবন্ধন এনবিআর বাজেট ২০২৬ ক্ষুদ্র ব্যবসা ভ্যাট বাজেট প্রস্তাবনা টার্নওভার কর রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ ব্যবসা নীতি

এনবিআরের নতুন ছক: সব ব্যবসা এখন ভ্যাটের জালে
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


এনবিআরের নতুন ছক: সব ব্যবসা এখন ভ্যাটের জালে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আসন্ন বাজেটে ভ্যাট কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতদিন টার্নওভারের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার যে রেওয়াজ ছিল, নতুন পরিকল্পনায় সেই সীমা তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এতে কার্যত দেশের প্রায় সব ধরনের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় চলে আসবে, যেখানে টার্নওভারের হিসেব-নিকেশের পরিবর্তে নির্ধারণ করা হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসিক কর।

এনবিআরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা টার্নওভারের শর্তটি বাতিল করে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৪ শতাংশ টার্নওভার ভ্যাটের বদলে মাসিক এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘সুনির্দিষ্ট ভ্যাট’ বা ফিক্সড ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব থাকছে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের বছরে ১২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হতে পারে। তবে এই কর কাঠামোর আওতায় এলে তাদের ভাড়ার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট আর আলাদা করে পরিশোধ করতে হবে না, কারণ নতুন প্রস্তাবিত করের মধ্যেই সেটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি হলো, অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে এমআরপি বা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট আদায় করে থাকেন, কিন্তু সেই টাকা ঠিকমতো সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে না। এই রাজস্বের বড় একটি অংশই যথাযথ নজরদারির অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এখনই বড় ধরনের করের বোঝা না চাপিয়ে, একটি সহজ ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে তাদের নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে সবাইকে আনতে সরকার বেশ কিছু কৌশলগত শর্তের ওপর জোর দিচ্ছে। এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার কিংবা কোনো ট্রেড বডির সদস্য হতে গেলেও ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ বাধ্যতামূলক করা হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা পরিচালনার প্রাথমিক ধাপগুলো পূরণ করতে গেলেই ভ্যাটের নিবন্ধন নেওয়াটা অপরিহার্য হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পর গত ৩৫ বছরেও নিবন্ধনের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখে আটকে আছে, যার একটি বড় অংশ আবার নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে না। এবার এনবিআর অন্তত ২০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত